প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশের প্রায় পোনে ২ কোটি কৃষক পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনার শাকসবজি চাষে নিয়োজিতদের অধিকাংশই নারী

মতিনুজ্জামান মিটু: [২] নারীর হাতে কৃষির গোড়াপত্তন। আদিযুগের কৃষি ছিল প্রকৃতির ওপর নির্ভর। তখনকার মানুষেরা জীবিকার জন্য বনজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। পশু শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহ করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। এগুলো করতেন পুরুষরা আর নারীরা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি ফলের বীজ মাটিতে পুঁতে রাখতেন। বীজ হতে গজানো চারা বড় হয়ে যখন ফলধারণ করত তখন তারা এ কাজে হতেন আরো উৎসাহিত। সে থেকেই কৃষিকাজে নারীর পথ চলা। অবিরাম চলছে বংশপরম্পরায়। পুরুষশাসিত সমাজে স্বীকৃতি না পেলেও কৃষিতে তাদের অবদান ঢের বেশি। বিশেষ করে সবজি চাষে।

[৩] বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সা¤প্রতিক সমীক্ষাসহ বিভিন্ন সূত্রের বরাতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের টেকনিক্যাল পার্টিসিপেন্ট নাহিদ বিন রফিক নিরাপদ সবজি চাষে নারীর সফলতার কথা তুলে ধরে জানান, দেশের অর্থনৈতিক কর্মক্ষেত্রে নারীর অবদান বেড়েই চলছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ৬৮ লাখ নারী কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতে কাজ করছেন। বর্তমানে জিডিপিতে নারীর অবদান ২০ শতাংশের বেশি। কৃষি খাতে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৯০ লাখ ১১ হাজার। গত এক যুগে এদেশে কৃষির নারীকরণ হয়েছে। গত ১০ বছরে ফসল উৎপাদনে তাদের অংশগ্রহন বেড়েছে প্রায় ১০৮ শতাংশ।

[৪] দেশে প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষক পরিবার আছে। তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় শাকসবজি চাষ হয়। এতে সম্পৃক্ত অধিকাংশই নারী। সবজি চাষে শুধু ক্ষুদ-প্রান্তিকরাই নয় বিলাসী নারীদেরও অবদান আছে। ছাদকৃষি এর উদাহরণ। বর্তমানে এর স¤প্রসারণ হচ্ছে জ্যামিতিক হারে। যার উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগ শাকসবজির দখলে থাকে। ছাদকৃষির যত্ন-আত্তি করে নারীরা সময় কাটান। এতে তাদের মানসিক প্রশান্তি আসে। পাশাপাশি সংগ্রহ করেন টাটকা এবং নিরাপদ ফসল। সবজি এবং নারীর সম্পৃক্ততা সারাদেশে বিরাজমান। তবে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকার চিত্র অবাক করার মতো। ‘ধান নদী খাল’ এ তিনে বরিশাল। পানিবেষ্টিত এ অঞ্চল প্রাকৃতিক কারণে সবজি আবাদের পরিবেশ প্রতিকূল। তবুও থেমে নেই এখানকার নারীরা। বৈরী পরিবেশে করছেন চাষাবাদ। তাই তো মাঠে মাঠে সবজিতে ছড়াছড়ি। নিচু হওয়ায় ধান ছাড়া অন্য ফসল চাষে যেখানে অন্তরায়, সে জমিতে সর্জান পদ্ধতিতে বারোমাস সবজি আবাদ হচ্ছে। এমনও স্থান আছে পানির গভীরতার কারণে স্বাভাবিকভাবে ফসল উৎপাদনে অনুপযোগী। সে সব জায়গাও এখন চাষের আওতায়। এমন দু’টি উপজেলা হচ্ছে ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ। ওখানের অধিকাংশ গ্রামের নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাজ করছেন সমানতালে। কিছু জায়গা আছে যেখানে বীজ বপন থেকে শুরু করে সার দেওয়া, পরিচর্যা, রোগপোকা দমন, ফসল তোলা, বীজ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এমনকি বিপণনের কাজ নারী একাই করেন। স্বামী-স্ত্রী প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে মাঠে বেরিয়ে পড়েন। তখন চারদিকে তাকালে শুধু সবজি আর মানুষের সমারোহ। ঝালকাঠির প্রায় ৪০টি গ্রামের দৃশ্য এমনই।

[৫] বর্তমানে দেশের প্রান্তিক নারীদের উৎপাদিত সবজি ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। সেখান থেকে বন্দরে, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশর সবজি এবং ফল বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সুইডেন, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান অন্যতম।

[৬] কিষানের পাশাপাশি কিষানিরাও মূল চালিকাশক্তি। তাই তাদের উৎসাহিত করা দরকার। সে সঙ্গে মর্যাদা এবং সহযোগিতার দরকার। কাজের স্বীকৃতি ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে তারা আরও আগ্রহী হবেন। ফলে উৎপাদনে আসবে ঈর্ষনীয় সফলতা। সংসারে আসবে স্বচ্ছলতা। নিজেদের হবে জীবনমানের উন্নয়ন। বাড়বে নারীর ক্ষমতায়ন। দেশ হবে খাদ্যে উদ্বৃত্ত এবং আরও সম্পদশালী। সম্পাদনা : ভিক্টর রোজারিও

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত