প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মাধবপুরে হাওরে অর্ধশতাধিক হাঁসের খামার

লিটন পাঠান: [২] হবিগঞ্জের মাধবপুরে হাওরে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগতভাবে হাঁস পালনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা, পরামর্শ এবং সরকারিভাবে খামারীদের মধ্যে ব্যাংক ঋণ পেলে হাওরে ব্যাপক আকারে হাঁস পালন বৃদ্ধি পাবে। হাঁস পালন হলে এ এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ডিমের চাহিদা পূরণ হবে।

[৩] মাধবপুরে কৃষক পর্যায়ে কমবেশি প্রতিটি ঘরেই সীমিত আকারে হাঁস পালন হয়ে থাকে। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে বিশাল হাওর জুড়ে সীমিত পর্যায়ে ৫০টির মত হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। দিনদিন এর খামার বেড়েই চলেছে। ডিমের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক বেকার লোক অন্যান্য খামারীদের অনুসরণ করে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছে। বৈশাখ মাসে বোরো ধান কাটার সাথে সাথেই হাঁসের বাচ্চা কেনা হয়। বাচ্চা রাখার জন্য হাওর এলাকায় উঁচু ভূমিতে ছোট খামার তৈরি করা হয়। মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, বাঘাসুরা, বুল্লা, ছাতিয়াইন, আন্দিউড়া, নোয়াপাড়া ভাটি এলাকায় হাঁসের খামার রয়েছে বেশি। এসব ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমি বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন এসব ভূমিতে কোনো ফসল উৎপাদন হয় না। খামারীরা এসব পতিত হাওরে হাঁসের খামার গড়ে তুলে অনেকেই সফল হয়েছেন। হাঁসের খামার গড়ে তুলতে খুব বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয় না। স্বল্প পরিসরে অল্প পুঁজিতে এসব খামার গড়ে তোলা যায়।

[৪] খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট পর্যায়ে একটি হাঁসের খামার গড়ে তুলতে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি হলেই গড়ে তোলা সম্ভব। মাধবপুর উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৫০টির বেশি হাঁসের খামার রয়েছে। যা থেকে প্রতিদিন ডিম সংগ্রহ করে পুষ্টির চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

[৫] উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের হাঁস খামারী আবু জাহির ও নাজিরপুর গ্রামের সফল খামারি মইন উদ্দিন জানান, বৈশাখ মাসে বাচ্চা তুলে হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। তার খামারে এখন ৬শ’ অধিক হাঁস রয়েছে। ৬/৭ বছর ধরে তিনি হাওর এলাকায় এ খামার পরিচালনা করছেন। হাওরে হাঁস পালনে তেমন খরচ নেই। প্রাকৃতিক ভাবেই হাঁস শামুকসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিজেরা খেয়ে থাকে। তবে মাঝে মধ্যে গম ও ধান খাবার হিসেবে দিতে হয়। এখন প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বাচ্চা পালনের পর ২/৩ মাস পর থেকেই ডিম দেওয়া শুরু হয়। একটি ছোট খামারে ২ জন শ্রমিক হলেই হাঁসের লালন পালন করতে পারেন।

[৬] শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান বলেন, মাধবপুরের ভাটি এলাকায় পতিত জায়গায় বর্ষা মৌসুমে হাঁস পালন করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ডিমের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব। কারণ বর্ষা মৌসুমে এসব জমি পানির নিচে এমনিতেই পড়ে থাকে। এসব জমি কৃষকের কোনো কাজে আসে না। সরকারিভাবে খামারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে হাঁসের খামার সম্প্রসারণ করলে এলাকার খামারীরা আরো বড় পরিসরে হাঁসের খামার গড়ে তুলে লাভবান হত।

[৭] মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন হাছান জানান, বর্ষা মৌসুমে এসব জমিতে ধান উৎপাদন হয় না। বিস্তৃর্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে থাকে। তাই হাঁসের খামার সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের কোনো বাধা নেই।

[৮] মাধবপুর উপজেলা সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া জানান, মাধবপুরে বিভিন্ন হাওর ও ছোট ছোট খালে প্রায় ৫০টির বেশি হাঁসের খামার রয়েছে। যা থেকে দেশি ডিম উৎপাদিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে খামারিদের সব রকম পরামর্শ ও হাঁসের চিকিৎসা সুবিধা ও ঔষধ দেওয়া হয়। তবে কৃষকদের সরকারি ভাবে কৃষি ঋণ’সহ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করলে হাওরে হাঁস পালন দেশে নতুন মডেল হতে পারে। সম্পাদনা : ভিক্টর রোজারিও

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত