প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজেটে জীবন-জীবিকার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি: সানেম

নিউজ ডেস্ক: ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জীবন ও জীবিকার বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন ঘটেনি বলে জানিয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। বেসরকারি এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বরাদ্দ অনেক কম।

শনিবার (০৫ জুন) বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানায় সানেম।

ভার্চুয়াল আলোচনায় সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের শিরোনামে জীবন ও জীবিকার কথা বলা থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে এর সংযোগ নেই। বর্তমান জীবন ও জীবিকার বাস্তবতার সঠিক কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা যদি সমস্যাকে সঠিকভাবে তুলে আনতে না পারি, তবে এর সমাধান করব কিভাবে। সমস্যা যদি সঠিকভাবে না পাই, এর সমাধান সঠিক হবে না।

গত বৃহস্পতিবার সংসদে ঘোষিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। প্রস্তাবিত এই বাজেটে করোনাভাইরাসের অবস্থার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেটি সঠিক নয় এবং তা অপরিপূর্ণ বলে জানান সানেমের নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, বাজেটে দারিদ্র নিয়ে, কর্মসংস্থান নিয়ে, শ্রমবাজার নিয়ে, এসএমই নিয়ে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে সেটা অপরিপূর্ণ আলোচনা। আর এই ধরনের অপরিপূর্ণ আলোচনার বিপদ যেটা হচ্ছে, নীতি নির্ধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য কাজ করে। নীতি নির্ধারকরা যদি কমফোর্ট জোনে থাকেন এরকম একটা সংকটের সময় তাহলে কিন্তু যথার্থ নীতি প্রণয়ন করা এবং সে নীতি বাস্তবায়ন করার যে একটা তাগিদ কাজ করা উচিৎ, সেটা তারা কিন্তু অনুভব করবেন না।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, আর যেহেতু সব বিষয়ের সঠিক চিত্র বাজেটে ছিল না, তাই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তির সমাধান আমরা এই বাজেটে পাইনি। যদিও সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব ছিল না। আর বাজেটে সমাধানের যে চেষ্টাগুলো করা হয়েছে, সেগুলো হয়েছে এডহক বিসিসে। সমস্যা সমাধানের সামগ্রিক কোনো পরিকল্পনা আমরা দেখিনি।

বাংলাদেশে যে বাজেট ঘোষণা করা হয় শেষ পর্যন্ত সেটির ৭৫ শতাংশের মত বাস্তবায়ন হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন কিভাবে বাড়ানো যায়, তার কোনো পরিকল্পনা আমরা দেখিনি।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় খরচ আরও বাড়ানো উচিত ছিল। এই তিন খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ ব্যয় ধরার কথা উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, শুধু শিক্ষাতেই ২ থেকে ৪ শতাংশ খরচ করা দরকার। অর্থাৎ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় জিডিপির ৮ থেকে ১২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা উচিত। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৪ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দিশমিক ৭৫ শতাংশ। স্বাস্থ্যে প্রস্তাবিত মোট বরাদ্দ ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জিডিপির দশমিক ৯৫ শতাংশ।

সানেমের গবেষণা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাজেটে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক আছে। কৃষি খাত বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় কর ছাড় দেয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা ইতিবাচক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষ তার কতটা সুবিধা পাবে, সেটা পরিষ্কার নয় বলে মনে করেন তিনি।

ব্যবসাবান্ধব বাজেটের কথা বললেন অর্থমন্ত্রী, কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সুবিধা পাবে, তাও স্পষ্ট নয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সুবিধা পাবে, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে বাজেটে যে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হলো না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সায়েমা হক। তার মতে, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি রোডম্যাপ থাকা উচিত। তবে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি উন্নয়নের অভিযাত্রার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ। – সময় অনলাইন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত