প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বানেশ্বর হাটে অপুষ্ট ল্যাংড়া-ফজলি আমের ছড়া-ছড়ি

আবু হাসাদ:[২] প্রশাসনের বিধি-নিষেধ অমান্য করে গত এক সপ্তাহ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ল্যাংড়া আম কেনা বেচা চলছে। অধিকাংশ আম চাষিরা বলছেন, প্রশাসন আম নামাতে প্রকার ভেদে বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন। তবে সঠিক তদারকি না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ী ও কিছু বাগান মালিকরা বাজারে কিছু জাতের আম আগাম আনছেন।

[৩] এখন বাজারে আসা বেশির ভাগ ল্যাংড়া আম অপরিপক্ক আছে।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজশাহী জেলার সর্ববৃহৎ আমের মোকাম বানেশ্বর সরকারি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে অনেকেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ল্যাংড়া আম বেচা কেনা করছেন। সেই সাথে বাজারের মধ্যে দুই একজন ফজলি আম বিক্রি করতে এনেছে। তারা প্রতিমণ ফজলি আমের দাম চাচ্ছেন ১৬শ’ টাকা মণ।

[৪] অপরদিকে ল্যাংড়া আম বেচা কেনা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে। জেলা প্রশাসনের দেয়া সময় অনুযায়ী ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে ফজলি আম নামানোর কথা। কিন্তু কেউ কেউ তা মানছেন না।
চারঘাট নিমপাড়া থেকে আম বিক্রি করতে আসা আব্দুল কাদের বলেন, বর্ষার পর থেকে এ বছর আমের আটি হওয়া পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। যার কারণে বাগানের আম গুলো সময়মত পরিপক্ব হচ্ছে না। যার কারণে এখনো অনেক গাছেই বিভিন্ন আটি জাতীয় আম রয়েছে। আর ল্যাংড়া-ফজলি গুলো স্বাভাবিক ভাবে পরিপক্ব হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

[৫] জাহেদুল ইসলাম নামে অপর আম বিক্রেতা বলেন, এলাকার ফড়িয়ারা বিভিন্ন আম বাগান কিনছেন। তারা আরও এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজারে ল্যাংড়া-ফজলি আম বিক্রি করছেন। প্রশাসন কোন আম কখন বেচা হবে তার বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন। কিন্তু বাজারে কোনো তদারকি না করায় অসাধু লোকজন আইন অমান্য করছেন।

[৬] তিনি আরও বলেন, ওই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা আমের কালার সুন্দর করতে বাগানেই স্প্রে করছেন। এরপর দুই দিনের মধ্যে আম ভেঙে বাজারে তুলছেন। ওই আম গুলোর কালার সুন্দর দেখতে হলেও ভেতরে পরিপক্বতা আসেনি।ল্যাংড়া আম বিক্রি করতে আসা স্থানীয় আম ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, আমার ৩টি আমবাগান কেনা আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ আম ভাঙা শেষ। একটি বাগানের মাত্র কয়েকটি ল্যাংড়া গাছ আছে। এই আম এখন না পাড়লে তা চুরি যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এগুলো ভেঙে বিক্রি করতে এসেছি।

[৭] তিনি আরও বলেন, বাজারে আমি একাই না অনেকই এখন ফজলি ও ল্যাংড়া আম আনছেন।বানেশ্বর হাট ইজারদার ওসমান আলী বলেন, বাজারে কোথাও অপরিণত আম বেচা কেনা হয় না। আমরা বাজারে সব সময় প্রশাসনের বিধি নিষেধ গুলো প্রচারণা করছি।

[৮] এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আম পাড়ার বিধি নিষেধ আরোপ করা আছে। তবে নিয়মের আগে কোনো আম আগাম পরিপক্ব হলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। আর উপজেলার বিভিন্ন আমের মোকাম গুলোতে সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত আছে। তবে ল্যাংড়া আম অনেক গাছেই পাঁকতে শুরু করেছে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত