প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৩০ বছরেও আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুণঃস্থাপন হয়নি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

জিয়া উদ্দিন: [২] বরগুনার আমতলীতে দেওয়ানী আদালত না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার মামলা- মোকোদ্দমার সাথে জড়িত লক্ষাধীক মানুষ। চার কিলোমিটার পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে মামলার জন্য যেতে হয় বরগুনা জেলা শহরের সহকারী জজ আদালতে।

[৩] ১৯৮২ সালে আমতলী-তালতলী নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠিত হয়। আমতলীতে মুনসেফ (দেওয়ানী) আদালত স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে কোন কারণ ছাড়াই আমতলী আদালত বরগুনা জেলা শহরের সাথে সংযুক্ত করে তৎকালীন সরকার। ১৯৯২ সালে পায়রা নদী ও রাখাইন অধ্যুসিত এলাকা বিবেচনা করে ফৌজদারী আদালত পুনরায় আমতলীতে শুরু হয়। কিন্তু গত ৩০ বছরেও দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

[৪] ২০১২ বরগুনা জেলা জজ আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও ৯ বছরেও তা আলোরমুখ দেখেনি। স্থবির হয়ে পড়েছে আদালত পুনঃস্থাপনের কার্যক্রম। দ্রুত আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

[৫] বরগুনা জেলা সদরে দেওয়ানী আদালত থাকায় জণস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে দাবী করেন আমতলী মানবধিকার কমিশনের সভাপতি অশোক কুমার মজুমদার।

[৬] এ আদালত পুনঃস্থাপনের দাবীতে ইতোমধ্যে আমতলী উপজেলা আইনজীবি সমিতি আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। বর্তমানে বরগুনা দেওয়ানী আদালতে আমতলী ও তালতলীর প্রায় ৪ হাজার মামলা চলমান রয়েছে। আদালত পুনস্থাপনের দাবীতে ২০১২ সালে তৎকালিন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম আমতলী আদালত পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দিয়ে বরগুনা জেলা জজের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলে যান। জেলা জজ আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিলের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের আলোর মুখ দেখেনি।

[৭] ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান বলেন, গত ১২ বছর ধরে বরগুনা সহকারী জজ দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা চলছে। পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বরগুনা আদালতে যেতে হয়। আমাদের মতো মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে আইন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত আমতলীতে দেওয়ানী আদালত স্থাপনের দাবী জানাই।

[৮] বরগুনা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এ্যাড. এম এ কাদের মিয়া বলেন, মানুষের কষ্ট বিবেচনা করেই আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করে আসছি। ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

[৯] আমতলীর কৃর্তি সন্তান ঢাকা বার আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. গাজী শাহ আলম বলেন, আমতলীতে দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপন সময় যুগোপযোগী দাবী।

[১০] বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, আমতলী উপজেলায় দেওয়ানী আদালত পুনঃস্থাপনের হলে লক্ষাধীক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত