প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সাঈদ: সীমান্তে কোভিড আর নির্বাচনের চক্করে ভালো থেকো বাংলাদেশ

শোয়েব সাঈদ: আজ থেকে একবছর আগে কোভিড যুদ্ধে বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রবল ঊর্ধ্বমুখিতায় আতঙ্কিত হয়ে লিখেছিলাম ‘ভালো থেকো বাংলাদেশ’। লেখাটিতে কানাডা বাংলাদেশের তুলনামূলক চিত্রে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলাম। ইলাস্ট্রেশনটি করে দিয়েছিলো আমার মেয়ে। আজ এক বছর পর নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে ভ্যাকসিন যুগের আশা-নিরাশার দোলাচলে ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলে তাড়া করছে কোভিড সংক্রমণে ভারতীয় উদাহরণের সাম্প্রতিক দুঃস্বপ্ন এমনি এক অবস্থায় এবছরের এই জুনে আবারো আমরা আতঙ্কিত।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জুন মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় এই আতঙ্কত প্রবলতর হয়েছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে কোভিড প্রায় চলে গিয়েছে এরকম এক তৃপ্ত অবস্থায় ভারত সরকার যখন বিজয়ী বিজয়ী ভাবনায় ঠিক তখনি মার্চ-এপ্রিলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন আর কুম্ভ মেলার বিপুল জনসমাগম অধিকতর সংক্রমণ সক্ষমতার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে সুযোগ করে দিয়েছিলো হঠাৎ করেই ভয়াবহ সংক্রমণে ভারতকে নিমিষে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করতে।  দৈনিক লাখ লাখ মানুষের সংক্রমণের ফলে ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আর এর সুযোগে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস-সহ নানা উৎপাতে বিপর্যস্ত হতে থাকে দেশটি। এরকম একটি নির্মম উদাহরণকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সম্প্রতি মোকাবেলা করছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণের প্রাবল্য। কোনো কোনো জেলায় টেস্টের বিপরীতে সংক্রমণ প্রায় ৫ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড মিটারে সংক্রমণে বাংলাদেশের গ্রাফটি কিন্তু এই মুহূর্তে ঊর্ধ্বমুখী। গ্রাফটিকে চেপে ধরতে হবে এখনই।

বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলোর মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থা নেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে, ফলে গ্রামে গঞ্জে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে বাংলাদেশ। এরকম এক ভীতিকর অবস্থায় জুন মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনসমাগমকে উৎসাহী করার সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী। উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচন হচ্ছে গ্রামীণ উৎসবের মতো। অধিকতর সংক্রমণ সক্ষমতার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে না। ভারত বেষ্টিত বাংলাদেশের সীমান্তে মানুষের আসা যাওয়া সফলভাবে রোধ করা সম্ভব নয় এটি আমরা সবাই জানি। ভারতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ থাকা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কঠোর নজরদারি, প্রয়োজনে পূর্ণ লকডাউন-সহ সংক্রমণ যাতে জনবহুল এলাকায় ছড়াতে না পারে সেটি যতোটুকু সম্ভব নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে যোগান দেওয়াটা এই মুহূর্তে সফল ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় অংশ। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো-সহ সারা দেশে জনসমাগমের মতো কোনো পরিস্থিতিকে কোনো অবস্থাতেই উৎসাহিত করা যাবে না। নির্বাচনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কোভিডের ভয়াবহ থাবা থেকে জনগণকে রক্ষা করা আর এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।  ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল আর ভারতের পরিণতি চাই না আমরা।  লেখক : অনুজীব বিজ্ঞানী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত