শিরোনাম
◈ ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ: ৪৭% মানুষের মতে তারেক রহমানই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘ শান্তি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত বাংলাদেশ ◈ সংবিধান সংস্কার পরিষদ কী, সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিতর্ক কেন? ◈ হুমকি, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরতি নিচ্ছেন মেঘনা আলম ◈ রাজধানী থেকে অপহৃত ৩ বছরের শিশুকে ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার, মূল হোতা গ্রেপ্তার ◈ ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন : মির্জা আব্বাস ◈ নির্বাচনে নিষিদ্ধ, হাসিনা পলাতক, আওয়ামী লীগ কি টিকবে?: আল জাজিরার বিশ্লেষণ ◈ আল্লাহ সুযোগ দিলে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে চাই—তারেক রহমান ◈ ম‌্যান‌চেস্টার সি‌টির কোচ পেপ গা‌র্দিওলা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের ‘কাপুরুষ’ বললেন  ◈ আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ–কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ: ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২১, ১০:৪৮ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২১, ১০:৪৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১]বঙ্গবন্ধুকে না হারালে জিডিপি হতো সোয়া লাখ কোটি ডলার

বাশার নূরু : [২] অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যদি আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে না হারাতাম তাহলে আজকে দেশের জিডিপির আকার হতো সোয়া লাখ কোটি ডলার।

[৩] বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বারবার বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ উঠে আসে।

[৪] বাজেট বক্তৃতার শুরুতে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল দেশের অর্থনীতি কিভাবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়ে ওঠে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেলে বাংলাদেশের পরিণত হওয়ার ইতিহাস তিনি তুলে ধরেন।

[৫] অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের নজীরবিহীন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো অবকাঠামো ও সম্পদ ছিল না। পুরো বাংলাদেশ ছিল একটি ধ্বংসস্তূপ। চারিদিকে ছিল শুধু হাহাকার। বাংলাদেশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্রতম দেশ। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের দরিদ্রতম ১০টি দেশের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল এবং বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতাও ছিল শতকরা ৮৮ ভাগ।

[৬] অর্থমন্ত্রী বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে তখন শংকা প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অস্টিন রবিনসন ‘ইকোনমিক প্রসপেক্টাস অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থে বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে ম্যালথাসিয়ান স্ট্যাগনেশনের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যার পরিণতি দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যু। তৎকালীন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির সঙ্গে তুলনা করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেন। কিন্তু সে সময় বঙ্গবন্ধু দৃঢ়কণ্ঠে সবাইকে জানিয়ে দেন- ‘বাংলাদেশ এসেছে বাংলাদেশ থাকবে’। বঙ্গবন্ধু সরকারের ৭১৯ কোটি টাকার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। দেশের উন্নয়নকে মাথায় রেখে বাজেটের ৬৪ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় উন্নয়ন বাজেটে। বঙ্গবন্ধুর সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলদেশের স্বাধীনতার প্রথম অর্থবছরে অর্থাৎ ১৯৭২-১৯৭৩ সালে ২.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। যার ফলে জিডিপির আকার হয় ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা এবং মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়ায় ৯৪ মার্কিন ডলারে।

[৭] অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আরও বলেন, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু প্রণয়ন করেন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮)। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য হ্রাসকে প্রাধিকার লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উপর এরপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রতিবছর গড়ে ৫.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যাদি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা, প্রতি বছর কমপক্ষে ২.৫ শতাংশ হারে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনের বিস্তারিত কৌশলও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ এগোচ্ছিল। পরিকল্পনা প্রণয়নের দ্বিতীয় বছরেই অর্থাৎ ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে ৫.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯.৫৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

[৮] অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে না হারাতাম আর একই ধারায় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতো তাহলে আমাদের জিডিপির আকার ৩৫ বছরে ৩০০ বিলিয়ন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে উন্নত দেশের জিডিপির সমান হতো। কিন্তু দুর্ভাগা আমরা। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কিছু লোকের কারণে জাতির পিতা সেই সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশ ও দেশের অর্থনীতি এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। জাতির পিতার সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণ থেমে যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়