প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপ করে শিক্ষাকে পণ্য ও শিক্ষার্থীদেরকে ভোক্তা বানানোর বাজেট: সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট

ডেস্ক রিপোর্ট: [২] ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই বাজেটকে অসংগতিপূর্ণ, শিক্ষা বিরোধী ও শিক্ষাকে পণ্য এবং শিক্ষার্থীদেরকে ভোক্তা বানানোর বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি।

[৩] সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বেড়েছে অনেক। কিন্তু একইসাথে বেড়েছে আয় এবং ব্যয়ের অসংগতি। করোনা মোকাবেলার কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি গতানুগতিক ধারারই বাজেট। রাজস্ব আয় বাড়াতে গিয়ে জনগণের কাধে নানা রকম ভ্যাটের বোঝা চাপানো, অন্যদিকে কর্পোরেট ট্যাক্স ২.৫% কমানো প্রমাণ করে সরকার ধনী তোষণের নীতি অব্যাহত রেখেছে। করোনা মোকাবেলায় গতবারের মতো এবারও থোক বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার ব্যয় কিভাবে হবে তার কোন নির্দেশনা নেই”। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “শিক্ষা খাত দেশের অন্যতম বিপর্যস্ত খাত। করোনার কারণে প্রায় ১৭ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

[৪] এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এর ওপর যাদের জীবিকা নির্ভরশীল, সেই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচণ্ড আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করছে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষা ব্যাবস্থায় ধনী-গরীব, নারী-পুরুষ বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে ইউনেস্কো। না হলে এই ক্ষতি পূরণ করতে কয়েক দশক সময় লেগে যাবে, এবং বিশ্ব একটি জেনারেশনাল ক্যাটাস্ট্রোফে তে পড়বে। অথচ বাজেটে এর কোন প্রতিফলন নেই। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হয়েছে মোট বাজেটের ১১.৯১ শতাংশ, যা জিডিপির ২.০৮ ভাগ। গত বছর এই বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ১১.৬৯ শতাংশ ও ২.০৯ ভাগ।

[৫] নেতৃবৃন্দ বলেন, “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর আবারও ১৫% ভ্যাট বসানোর ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে সরকার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বলা হলেও প্রতিবছর এসকল প্রতিষ্ঠান বিরাট অংকের মুনাফা করে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নির্ধারণে কোন নীতিমালা না থাকায় আরোপিত এই ভ্যাট আদায়ের চাপ গিয়ে পড়বে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এর ওপরে। এটা মূলত শিক্ষাকে পণ্য ও শিক্ষার্থীদেরকে ভোক্তা বানানোর এক হীন অপচেষ্টা। এই অপচেষ্টা ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আবারও রুখে দিতে হবে”।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত