প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বড়লেখায় খাসিয়াদের পানজুম দখলকারি ২ জন গ্রেপ্তার, ৭দিনেও দখলমুক্ত হয়নি পানপুঞ্জি

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বনাখলাপুঞ্জির পানজুম দখলের পর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

[৩] বুধবার (২ জুন) রাত তিনটার দিকে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার উত্তর ডিমাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন।

[৪] বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মুখলেছ আলী (৪০) ও মহরম আলী ওরফে কুটুন মিয়া (২২)। তারা দুজন বড়লেখা সদর ইউপির উত্তর ডিমাই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

[৫] জবর দখল হওয়ার সাতদিন পরও পানজুম দখলমুক্ত হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রশাসনের কাছ থেকে বুধবার পর্যন্ত দখলদারদের সরিয়ে নেয়ার সময় নিলেও তিনি পানপুঞ্জিটি দখলমুক্ত করতে পারেননি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে পানজুমে প্রবেশ করতে পারছে না খাসিয়ারা। জুম থেকে পান তুলতে না পেরে তারা অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন।

[৬] উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৮ মে) সকালে বনাখলাপুঞ্জির জুম দখল করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। জুম দখলের পর সেখানে তারা একটি ঘরও নির্মাণ করেছে। একসপ্তাহের মধ্যে তাদের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা না দিলে খাসিয়াদের তারা জুমে প্রবেশ করতে দেবে না বলে জানায়। গত রোববার (৩০ মে) পুঞ্জির নারী মন্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) নরা ধার ও ছোটলেখা বাগানের প্রধান টিলা করণিক মো. দেওয়ান মাসুদ থানায় পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন।

[৭] পুলিশ জানিয়েছে, তারা দখল হওয়া বনাখলাপুঞ্জির পানজুম আইনি প্রক্রিয়ায় দখলমুক্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আগারপুঞ্জির খাসিয়াদের সহস্রাধিক পানগাছ কাটার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

[৮] গত মঙ্গলবার (১ জুন) বিকেলে পুঞ্জির ৩৬টি খাসিয়া পরিবারের লোকজনের সাথে ছোটলেখা চা-বাগান ব্যবস্থাপকের বাংলোতে ডেকে এনে কথা বলেন, বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রশাসনের কাছ থেকে খাসিয়াদের জুম উদ্ধার ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে আদিবাসী নেতারা জানান।

[৯] ছোটলেখা চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাকিল আহমদ মুঠোফোনে বলেন, খাসিয়ারা আমাদের কাছ থেকে টিলাভূমি সাব লিজ নিয়ে পান চাষ করছে। তাদের পানজুম দখল ও পানগাছ কাটার ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করেছি।

[১০] এদিকে, পানজুম দখল ও পুঞ্জির সহস্রাধিক পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় বুধবার (২ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ডাড্লী ডেরিক প্রেন্টিস, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসি ফোরামের মহাসচিব ফিলা পতমী, বাসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখা সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসান বনাখলাপুঞ্জি ও আগারপুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন। তারা পুঞ্জি দুটিতে ঘুরে পুঞ্জি প্রধান ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে কথা বলেছেন।
[১১] নেতৃবৃন্দ বলেন, খাসিয়াদের পানজুম দখল ও পানগাছ কাটার ঘটনাগুলো ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সাথে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার যেন দ্রুত সমাধান হয়। খাসিয়া সম্প্রদায় যেন র্নিবিঘ্নে পান চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

[১২] এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী সাংবাদিকদের বলেন, বনাখলাপুঞ্জি পানজুম গত কয়েকদিন ধরে দখল করে রেখেছে স্থানীয় কিছু লোক। বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) এবং বড়লেখা থানার ওসিসহ সেখানে গিয়ে খাসিয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে দখলদারদের সরে যেতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল।

[১৩] কিন্তু তারা (দখলদাররা) সরেনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও এসপি মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। পানজুম দখলমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত