প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাবনায় শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য ছুরিকাহত, আটক এক

পাবনা প্রতিনিধি : [২] সুজানগরে একটি শিশু বাচ্চা উদ্ধার করতে গিয়ে শিশুটির নানার বাড়ির আত্মীয়দের হামলা ও ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

[৩] বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের খয়রান গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

[৪] সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সদর থানার চরতারাপুর ইউনিয়নের আরিয়া গোহাইলবাড়ি গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী গত বছর সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ে রেখে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর হাসান আলীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার শিশু মেয়ে মারজিয়াকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম তারাবাড়িয়াতে নিয়ে যায়।

[৫] শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে মেয়েকে ফিরে নিতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে পরে হাসান আলী আদালতের শরনাপন্ন হন। ইতিমধ্যে তার শ্যালক পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়িয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শাহাদত হোসেন ভাগ্নি মারজিয়াকে টাকার বিনিময়ে সুজানগর উপজেলার খয়রান গ্রামের নিঃসন্তান সাইফুল ইসলাম মল্লিকের কাছে দত্তক দেন। গত দেড় মাস ধরে সাইফুল ইসলাম মারজিয়াকে নিজের বাড়িতে রেখে যত্নসহ লালন পালন করছিলেন।

[৬] নিজের মেয়ে মারজিয়াকে ফিরে পেতে অনেকবার চেষ্টা করেও কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না বাবা হাসান। এক পর্যায়ে আদালতের নিজের অনুকুলে রায়ের পর তিনি সুজানগর থানা পুলিশের সহযোগিতা চান এবং বুধবার সন্ধায় মেয়েকে ফিরে পেতে দত্তক গ্রহণকারী খয়রান গ্রামের সাইফুল মল্লিকের বাড়িতে যান পুলিশ।

[৭] বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে দত্তক গ্রহণকারী সাইফুল মেয়েটির নানা জালাল উদ্দিন খান ও মেয়েটির মামা শাহাদৎ আলীকে খবর দেন। তারা সেখানে উপস্থিত হলে ব্যাপক বাকবিতন্ডা ও ঝগড়ার সৃস্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে মেয়েটির মামা শাহাদত উপস্থিত লোকজনকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্য আহত হোন।

[৮] সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরিসহ পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়িয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শাহাদতকে আটক করেছে। এদিকে সার্চ ওয়ারেন্টের ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে তার পিতার নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এখন আমাদের হেফাজতেই রয়েছে, আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে পিতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেছি, বাকিদের আটকে চেস্টা চলছে। থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

[৯] পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমাদের দুই পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে মারাত্বক জখম করেছে। তারা উভয়ই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। রাতেই আমিসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত