প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারী গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী: [২] রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস থেকে মশিউর রহমান খান ওরফে বাবু নামের একজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তর।

[৩] সিআইডি বলছে, বাবু বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে জিআর-সিআর মিলিয়ে মামলা রয়েছে প্রায় ৯২টি। হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রংয়ের হেরিয়ার টয়োটা জিপ, দুটি মোবাইল ও তিনটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

[৪] বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, গ্রেপ্তার বাবু তার সহযোগীদের নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে সন্ধান করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বড় বড় অংকের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কিনতেন। এরপর নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করে অধিক পরিমাণ পণ্য নিতেন। পরে মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যাংকের চেক দিলে পাওনাদাররা চেকের টাকা তুলতে না পেরে সর্বস্বান্ত হন।

[৫] বাবুর প্রতারণার কৌশল হিসেবে ছিল-বিভিন্ন জায়গায় সুন্দর করে ডেকোরেটেড অফিস সাজিয়ে নিজেকে আবরার গ্রুপের বায়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতেন। চুক্তি অনুযায়ী পণ্যের মূল্য বাবদ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করতেন। বাকি টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করবেন বলে জানালেও ভুয়া চেক দিতেন ব্যবসায়ীদের।

[৬] শেখ ওমর ফারুক বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকা ছাড়াই পণ্য নিতেন বাবু। আসামি বাবু অত্যন্ত সুচতুর ও প্রতারক। তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা। দীর্ঘদিন ধরে চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করেছেন।

[৭] সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতারক বাবু বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মালামাল কিনে নগদ টাকার বিনিময়ে সেগুলো বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের পণ্যের টাকা পরিশোধ না করে হয়রানি করতেন। এভাবে প্রতারণা করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেন।

[৮] এদিকে সংবাদ সম্মেলনের কক্ষের সামনে ভিড় করেন প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী। গ্রেপ্তার বাবুকে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা তাকে গালমন্দ করার পর মারতে তেড়ে যান। পরে বাবুকে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যান সিআইডি কর্মকর্তারা।

[৯] ভুক্তভোগীরা বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও দামি ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নামমাত্র টাকায় কিনে বাকি টাকা পরিশোধ করতেন না বাবু। টাকা চাইতে গেলে ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি ও মারধর করতেন।

[১০] অটোমেশন নামে ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানিতে কর্মরত ফাতেমা আক্তার মনি নামের একজন ভুক্তভোগী জানান, দুই মাস আগে বাবু তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকার পণ্য কেনেন। বিনিময়ে বাবু টাকা না দিয়ে চেক দেন। চেকটি ব্যাংকে নিয়ে গেলে ডিজঅনার হয়।

[১১] মাহমুদ হাসান নামের অপর ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকার এসি কিনেছিলেন বাবু। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এসিগুলো বাবু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত