প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেরিন ড্রাইভে শুধু পর্যটনশিল্প থেকেই বছরে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভবনা

রিয়াজুর রহমান : [২] ২০১৭ সালের ৬ মে এ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত।

[৩] বর্তমানে পৃথিবীর দীর্ঘতম এ মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজারের চেহারা বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

[৪] সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ছিল। তিনটি ধাপে মেরিন ড্রাইভটি নির্মাণ করা হয়েছে।

[৫] প্রথম ধাপে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়।
এতে মোট খরচ হয় প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা। এর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর আগেই তা শেষ হয়।

[৬] সড়কটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার আগেই নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এটিকে একেবারে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

[৭] কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্রের কোলঘেঁষে ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

[৮] এ সড়কে যুক্ত হয় কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিদ্যমান ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। পরিকল্পনা রয়েছে এ সড়ক ঘিরেই মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠবে ছোট-বড় অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। স্থানে স্থানে হচ্ছে ছোট ছোট সি-বিচ। এ মেরিন ড্রাইভ ঘিরে শুধু পর্যটনশিল্প থেকেই বছরে আয় করা সম্ভব হাজার কোটি টাকা।

[৯] সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণ করা হয় সেটি দ্রুততম সময়ে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে শুধু মেরিন ড্রাইভের কারণে।

[১০] এ মেরিন ড্রাইভের কারণেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকাগুলোর চেহারাও পাল্টে যাচ্ছে।

[১১] সুরক্ষিত হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা। এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল এলাকায়। এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ। বদলে যাবে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও। ওই অঞ্চলে কমবে বেকারত্ব।

[১২] মেরিন ড্রাইভ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল এবং সীতাকুন্ড উপকূলে প্রস্তাবিত মিনি বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

[১৩] কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমেদ জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মিরসরাই থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত গড়ে উঠবে ছোট বড় অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল মোটেল রেস্টুরেন্ট অর্থনৈতিক জোন এক্সক্লোসিভ ট্যুরিস্ট স্পট, শত কিলোমিটার অব্যবহৃত সী-বীচ পর্যটকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। বিশাল বিস্তৃর্ণ পর্যটন স্পট, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসবে বিশ্বের পর্যটন পিপাসু সৌখিন পর্যটকেরা। এতে করে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে বিদ্যুৎ গতিতে। দেশের অহংকার এ দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়ক আমাদের আত্মমর্যাদা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত