প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত: ড. আহমদ আল কবির

শাহিন হাওলাদার: [২] আমাদের নতুন সময়কে বিশেষ সাক্ষাৎকারে রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির বলেন, বেকার তরুণেরা কর্মহীনতায় অনেক হতাশ, বাজেটে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে উদ্যোগ থাকা উচিত।

[৩] সামাজিক নিরাপত্তাবলয় সঠিক ভাবে সৃষ্টি করতে পারলে, সমাজে গরিব এবং নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

[৪] মহামারিকালে বৈশি^ক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্যতিক্রমী হওয়া প্রয়োজন [৫] বাজেট বাস্তবায়নই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

[৬] শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, কর্মবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, প্রথাগত শিক্ষা দিয়ে উন্নতি সম্ভব নয়।

[৭] মাননীয় অর্থমন্ত্রী যেসব কথা শুরু থেকে গণমাধ্যমে বলেছেন, তা থেকে বোঝা যায় কর্পোরেট খাতে সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছেÑ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখা দরকার। তাদের যদি এই পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া না হয় তাহলে অর্থনীতি গতিশীল হবে না।

[৮] বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, যে কারণে হয় তা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ কারা উচিত। [৯] রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করার জন্য দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। বিশেষ করে তাদের জন্য শুধু খাবের ব্যবস্থা নয়, টিকার ব্যবস্থাও যাতে করা যায় সরকারের উচিত সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা। [১০] অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন বাজেট করা উচিত। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষের দিকে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে বরদ্দ দেওয়া উচিত এবং যারা পেছনে আছে তাদের অবস্থা কেইস বাই কেইস বিবেচনা করা উচিত।

[১১] করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক বর্তমান অবস্থার কারণে এবারের বজেট হবে ঘাটতি বাজেট। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কনজামশন লেভেল বাড়াতে হবে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। বিনিয়োগকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। বিশেষে করে কৃষি খাতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব, নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিদেশ থেকে যারা আসেন, তাদের কৃষিতে উৎসাহিত করার জন্য সরকার কিছু বিশেষ ফান্ড বরাদ্দ করতে পারে। বিদেশ থেকে যারা আসেন তারা যদি কৃষিতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী হবে।

[১২] সৌভাগ্যর বিষয় হচ্ছে, এ বছরের বোরো ফসল ঠিকভাবে উঠেছে। কোনো সময় ফসল নষ্ট হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। তাই কৃষিতে সরকারের যে অগ্রধিকার আছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশি-বিদেশি সকলকে কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

[১৩] এসএমই খাতকে সম্প্রসারণ করতে হবে। বড় খাতগুলো বেশি সুবিধাভোগী হলেও এসএমই খাত সব সময়ই বঞ্চিত। ব্যাংকের কাছে গেলেও তারা খুব যে প্রাধান্য পায় তা বলা যায় না। [১৪] নারী বিনিয়োগকারীরা কাগজে-কলমে প্রাধান্য পায় বাস্তবে নয়। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দরকার।

[১৫] করোনা ভাইরাস মোকবেলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা আছে। তারা সার্বজনীন নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নতি মানেই সরকারের উন্নতি, এটা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। স্বাস্থ্য সেবায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যাতে বৈষম্য না হয়, তা বিবেচনার মধ্যে রাখতে হবে। স¦াস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিভাগে যে অদক্ষতা আছে তা কীভাবে দূর করা যায়, সে ব্যাপারে ভাবতে হবে।

[১৬] বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর আদায় করা। গতানুগতিক পথে না গিয়ে নতুন কর দাতা চিহ্নিত করতে হবে। নেপালের থেকেও বাংলাদেশের কর জিডিপির অনুপাত কম। মানুষকে করের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। কর ব্যবস্থায় একটা বড় ধরনের সংস্কার করে অটোমেশনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর ব্যবস্থাকে সহজীকরণ করতে হবে। কর ব্যবস্থা সহজীকরণ করা হলে মানুষ কর দিতে রাজি হবে। করের পরিধি অনেক বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে যারা বেশি আয় করেন তাদের সবাইকে করের আওতায় আনা উচিত। এটা সরকার এবং এনবিআরও স্বীকার করে কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

[১৭] অন্যদিকে মফস্বল এলাকায়ও এখন অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী আছে তাদের করের আওতায় আনা উচিত। বাজেটের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিলে কোনো অসুবিধা হয় না। তবে তার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব জায়গা থেকে টাকা ফেরত আসবে সেসব জায়গায় ব্যয় করতে হবে। [১৮] আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ প্রত্যাশিত লেভেল থেকে অনেক ওপরে আছে। এসব মুদ্রা সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে।

[১৯] ছাত্র-ছাত্রীদে শ্রেণি কক্ষে নিতে হবে। মহামারির এ সময়ে এসে পৃথিবীর সকল দেশই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার চেষ্টা করছে। তা না হলে তারা মাদক-সহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পারলে ভালো হয়। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে আনার জন্য সব খাতেই কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এ পরিবর্তনগুলো করতে হবে টেকসইভাবে। কারণ বিশ্ব বাজার এখন অনেকটাই ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। বিশ্ব বাজারের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের চিন্তা ভাবনায় অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।

[২১] বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে গণতান্ত্রিক করার জন্য জেলা বাজেট করার কথা হয়েছিলো, যা বর্তমানে পিছিয়ে গেছে। পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। যেসব এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে কাজ করা উচিত।

[২১] প্রজননের সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দিয়ে মাছ ধরা যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, হাওড় এলাকায়ও সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

[২৩] করোনাকালে আমরা দেখিছি সার্বিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সুতরাং শুধু শিল্পায়নে মনোযোগী হলে হবে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের জন্য সিরিয়াসলি কাজ করতে হবে।

[২৪] পোশাক ও ফার্মাসিটিক্যালস খাতের জন্য বাজার ব্যবস্থায় বৈচিত্র আনতে হবে। করোনা কেন্দ্রিক নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করে নতুন বাজার ধরতে হবে। আমাদের এবারের বাজেট একটা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে, তাই সঠিক পরিকল্পনা করা উচিত। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

[২৫] প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে মনোযোগ দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রশাসনকে জেলা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করেছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত