প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: ভুল করে ভুলে যাই, তোমাকে ভুলি নাই!

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মার্গারিটকে খুঁজে পেয়েছিলেন আমেরিকায় গিয়ে, প্যারিসের পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারই হাত ধরে। মার্গারিটকে হারিয়ে ফেলার বহুকাল পরে স্ত্রীর হাত ধরে তিনি গিয়েছেন ফ্রান্সে। কিন্তু মনে সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছে- মার্গারিট কি কোথাও থেকে সর্বক্ষণ তাকে দেখছে? হুমায়ূন আহমেদ নীলু নামের যতো চরিত্র লিখেছেন, সবখানেই পরিণতি খুবই করুণ। অথচ সত্যিকারের নীলুকে নিয়ে হুমায়ূন পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সারাটা বিকেল তিনি অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু নীলু আসেনি। সেই না আসাই হয়তো সেজন্য বারবার ফিরে ফিরে এসেছে তার গল্প উপন্যাসে। নীলু সম্পর্কে শাহানা কায়েসকে লেখা চিঠিতে হুমায়ূন নিজেই লিখেছেন- যার জন্য আমরা অপেক্ষা করি, তারা আসে না। যাদের জন্য অপেক্ষা করি না, তারাই ফিরে ফিরে আসে! বারবার প্রতিশোধ নিতে তিনিই কি স্মৃতির সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হননি? আমার বন্ধু কবি হেলাল হাফিজ যেমন করে ক্লান্ত হয়েও বলেন, তসলিমা ছিলো এক খাপখোলা তরবারি। আমি তারে টিপ্পনী কেটে বলি, এজন্যই বুঝি সে তোমারে কইছে সুযোগসন্ধানী। সে থামে না। তার গল্প বয়ে চলে। থামিয়ে দিয়ে আমি আবার জিজ্ঞেস করি, এভাবেই কি হারিয়ে ফেলেছ সবাইকে? সে প্রতিবারই হেসে বলে, ধুর পাগলি, কেউ কি কখনো কাউকে হারাতে পারে! তাই এসব খামখেয়ালি দিনে নিজেকে প্রশ্ন করি- যাদের আমরা জীবন থেকে হারিয়ে ফেলি, তারা কি আসলেই হারায়? আমার মনে হয় হারায় না।

যে প্রেমিক কথা দিয়েও কথা রাখেনি, যে প্রেম হতে গিয়েও হয়নি, যে সম্পর্ক কাছের হয়েছিলো কেবল দূরের টিকেট হাতে নিয়ে, সেসব আমরা কখনো ভুলি না। সেইসব না ভুলে যাওয়া স্মৃতিতেই সমুদ্রের সামনে গিয়েও ভাবি- আমাদের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা গোপন সমুদ্রের কথা। ফিসফিস করে নিজেকেই বলি- ভুল করে ভুলে যাই, তোমাকে ভুলি নাই! কে না জানে, এই হাহাকারময় নিষ্ঠুর পৃথিবী শেষ পর্যন্ত অদ্ভুত মায়ার খেলা, কিন্তু মায়াবানের মেলা নয়। অথচ এই মায়ার খেলায় প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলার জন্য একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। কারণ শেষ পর্যন্ত মুহূর্তগুলোই জীবন, আর জীবনগুলোই একেকটা মুহূর্ত। সেইসব হারিয়ে ফেলার মুহূর্তের কথা ভাবার অবসর এসব হারিয়ে ফেলতে থাকা মুহূর্তে ছাড়া আর কোথায় পেতাম? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত