প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাত্য রাইসু: কেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার তুলনা করাটা সমস্যাজনক?

ব্রাত্য রাইসু: জিয়া হাসান তার একটা লেখায় বলছেন, ‘জিয়াউর রহমানের পায়ের ফেলে দেওয়া নখের সমান রাষ্ট্র চালানোর যোগ্যতা রাখেন না।’ বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি এই কথা বলেছেন। তার এই তুলনার উদ্যোগ সমস্যাজনক। নট যে এইটা ভুল বা ঠিক হওয়ার কারণে সমস্যাজনক। বরং তিনি পরিবারতান্ত্রিক বা বংশপরম্পরা রাজনীতির পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন এই তুলনামূলক সমালোচনার মধ্য দিয়ে। যেন যদি জিয়াউর রহমানের নখের যোগ্য হইতেন খালেদা জিয়া তবে তা খারাপ হইত না! পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিকে সাপোর্ট করবেন, আবার একইসঙ্গে তা থেকে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন বা সফলতাও কামনা করবেন তা হয় না। এই তুলনাটি গণতান্ত্রিক তুলনা হইতে পারতো যদি তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেশের আর সব রাষ্ট্রনায়কের তুলনার তালিকার বাইরে খালেদা জিয়াকে না রাখতেন। তাদের বাদ দিয়েই জিয়াউর রহমানের নখ এবং খালেদা জিয়ার তুলনায় নেমেছেন হাসান। তাতে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও খালেদার কী কী গুণ নেই তার তালিকাকে বড় করে তুলছেন তিনি। যেন সরকারে যাওয়ার পরে একজন পতিব্রতা স্ত্রী হিসেবে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠাই ছিলো প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার লক্ষ্য ও কর্তব্য।

জিয়া হাসান এই তুলনা করতে যেয়ে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিফলতাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিফলতা হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরছেন। এইখানে তার ক্ষুদ্রদৃষ্টি। আশা করি তিনি পরিবারতন্ত্র কেন ফ্যাসিজমের দিকে যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত লিখবেন। তার আলোকে, অর্থাৎ ফ্যাসিজম গ্রহণ না করে থাকতে পারার আলোকে, বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারকে জিয়াউর রহমানের ফেলে দেওয়া কিছু নখের টুকরো তিনি উপহার দিতে পারতেও পারেন। আওয়ামী বা বিএনপি রাজনীতি উভয়ই ভায়োলেন্ট রূপ ধারণ করে মূলত বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রাণান্তকর পারিবারিক ফাইট দিতে যেয়ে। পরিবারকে যখন রাষ্ট্র বানাইবেন তখন রাষ্ট্র কী কারণে পারিবারিক কোন্দলের বাইরে থাকবে? পরিবার ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সফলতা বরং আরও পরিবারতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব উপহার দিবে। আমরা তার থেকে যদি মুক্তিই চাই তবে পরিবারের কোন সদস্য কোন সদস্যের চাইতে ভালো করেছেন আমাদেরকে শাসন করতে গিয়ে, সেই জমিদারি আলাপের অবসান দরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত