প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আগামী বাজেট সাধারণের দাবি চাল, তেল, ওষুধের দাম কমানো হোক

বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] গত ৩ মাসে চালের দাম ২২ শতাংশ, তেল ৩৫ ও ওষুধের মূল্য সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছে। আর করোনায় নতুন গরীব ১ কোটি ২০ লাখ, ৮৩ শতাংশ কর্মজীবীর আয় কমে গেছে। এ হিসাব সিপিডির।

[৩] এই অবস্থায় ২০২১-২২ সালের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল। যদিও তিনি বলেছেন, এবারের বাজেটটি হবে গরীব ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার। সুতরাং সাধারণ মানুষ আগামী বৃহস্পতিবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে বাজেটের মিল খোঁজারই চেষ্টা করবে। তাদের দাবি একটাই এবারে অন্তত চাল, তেল আর ওষুধের দাম কমুক।

[৪] সাধারণ মানুষের বাজেট প্রত্যাশাকে আর্থিক বিচারে খুব যে কার্যকর হবে এমনটা মনে করেন না অর্থনীতিবিদরা। সিপিডি চালের মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে চালের যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে তার সঙ্গে আসলে বাজারের কোন সম্পর্ক নেই। এটা একেবারেই কারসাজি। কারণ জানুয়ারিতে যেখানে চালের মূল্য ৩ শতাংশ বেড়েছিল সেখানে এপ্রিল এসে ২২ শতাংশ বাড়তে পারে না। তেলের বাজারের ক্ষেত্রেও তারা একই মত পোষণ করেন। ওষুধের বিষয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্লেয়াররা এখানে কাজ করছে। বাজটে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের সবচেয়ে কম ব্যয় হওয়াই তা প্রমাণ করে।

[৫] অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের ৬০ ভাগ মানুষ কোন না কোন সময় কাজ হারিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে দক্ষিণ এশিয়ার যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বরাদ্দ কম। মানুষের খাদ্য সহায়তা সরকারের তরফে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। নিট আর্থিক সহায়তা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ। সুতরাং বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটুকু পুরণ হবে তা হয়তো বাজেটের পরেই বলা যাবে।

[৬] গত বছর সরকারের ব্যয় বাড়েনি। আয় মানে রাজস্ব আদায়ও। উন্নয়ন খাতে ব্যায় ৪৯ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি ঘাটতি ধরে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। যার আকার হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৬৪ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

[৭] করোনার ধাক্কা সামলাতে সরকার আয়ের দিকে বেশি নজর দিয়ে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। এটি জিডিপির ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চলতি বছরে এ আয়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। করোনা মহামারিতেও চলতি বছরের চেয়ে ৩৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা বেশি। আর মোট আয়ের মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদান নেওয়া হবে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

[৮] সূত্র জানায়, করোনার মধ্যে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আয় যা আদায় হয়েছে সেটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। এরপরও আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণে কর খাত থেকে আদায় হবে ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এই করসমূহের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত করা হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতিত প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

[৯] করোনা মহামারি আগামী অর্থবছরে থাকবে- এমনটি ধরে নিয়েই বাজেটে ব্যয় খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ এতে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়বে। যে কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে আবর্তক ব্যয় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ৪ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা এবং খাদ্য হিসাব হচ্ছে ৫৯৭ কোটি টাকা।

[১০] চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ৫ হাজার ১ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। ঋণ করার কারণে বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হয়। এজন্য আগামী বছরে সুদ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

জানা গেছে, করোনার আঘাতে নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। এবারই প্রথম দেশের ১৫০টি উপজেলার সব বয়স্ক মানুষ ও বিধবা নারীকে ভাতা দেওয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় বাড়বে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতাও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত