প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হুমকিতে হোসেনপুরে সেতু

আশরাফ আহমেদ: [২] কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী গ্রামের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদের উপর নির্মিত সেতুর নিচ থেকে অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে মাটি সরে গিয়ে সেতুর এক পাশ ধ্বসে গেছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে সেতুটি। বিকল্প সেতু না থাকায় ৭টি গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে। এতে যে কোনো মুহুর্তে সেতুটি ধসে হতাহতের আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাই দ্রুত সময়ে টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

[৩] উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে হাজিপুর-পোড়াবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময়ে এ শাখা নদের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাই জনগণের চলাচলের স্বার্থে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হোগলা কান্দি ভোটের বাজার সংলগ্ন ২০০৪ সালে নদের উপর একটি সেতু নির্মাণ করে। এই নদের অংশে প্রস্থ ১৮০ ফুট। কিন্তু মাত্র ১৮ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করে বাকি অংশে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ হোগলা কান্দি হয়ে চরকাটি হারী (বড়বাড়ী) বন্যা বেড়িবাঁধের সঙ্গে সংযোগ রাস্তাটি পাকা করা হয়। এতে উপজেলার চরহাজিপুর, চরহটর আলগী, চর আলগী, বীরকাটিহারি ও গড়মাছুয়াসহ আশপাশের বাসিন্দাগণ হোসেনপুর ও গফরগাঁও উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠে এ সড়কটি।

[৪] উপজেলার চরাঞ্চলে কৃষি ফসল ও শাক সবজি উৎপাদনে বিখ্যাত। ফলে কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসলাদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের জন্য এ সেতুর মাধ্যমে পারাপার করে থাকে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে ওই শাকসবজি ও ফসলাদি ক্রয় করে নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এই নদের খননের কার্যক্রম শুরু হয়। সেতুর নিচে খনন করতে গিয়ে প্রবল পানির স্রোতে নদের নিচে অংশে মাটি সরে গিয়ে সেতুটি একপাশে ধ্বসে পড়ে।কিন্তু সেতুটি হঠাৎ করে ধ্বসে পড়ার কারণে কৃষকের ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। ফলে এতদ অঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কয়েক হাজার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

[৫] হাজিপুর-পোড়াবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আকবর আলী জানায়, বর্তমান সরকার নদকে দখলমুক্ত করতে ও নদের পানি ধরে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদেও খনন কাজ শুরু করলে নদে মাছ ধরার জন্য স্থানীয়রা পানি প্রবাহের জন্য সেতুর মাটি কেটে নালার সৃষ্টি করে এতে সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটি ঝঁকির মধ্যে পড়েছে।

[৬] চরকাটিহারি গ্রামের জামাল উদ্দিন মৃধা, ফরজুল মল্লিক, মোঃ হেলাল মিয়া, সরুজ আলী, হোগলাকান্দি গ্রামের গোলাম মস্তুফা, জাফর উদ্দিন, বিরণ রবিদাস, নজরুল মেম্বারের মত অনেকেই জোর দাবি করে বলেন, এ সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় আমাদের এই অঞ্চলের কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

[৭] হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ জানায়, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখে এসেছি। তবে সকলের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত