প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাত্য রাইসু: রকমারির জনপ্রিয়তা বেচার পলিটিকস এবং সেক্যুলার লেখকদের অসহায়ত্ব

ব্রাত্য রাইসু: বইয়ের মার্কেটে ধর্মভিত্তিক বই লেখেন না এমন লেখকদের বই যে বেশি চলে না এইটা শো করাটা একটা সক্রিয় ধর্মভিত্তিক পলিটিকস তো বটেই। রকমারি সেই পলিটিকসটা বেশি চলার একটা বাস্তব সত্যকে অবলম্বন করে নিজেই তৈরি ও প্রচার করছে। এর বিপরীতে সেক্যুলার রাইটার হিসেবে আপনার অবস্থান কী?

[২] প্রথমত আপনাকে হুমায়ূন আহমেদ বা জনপ্রিয় রাইটারের বাজাইরা ধারণাটারে রিজেক্ট করতে হবে। যদি হুমায়ূন এবং বেশি বই চলার জনপ্রিয় ও সত্য ধারণাটির আপনি গ্রাহক ও প্রচারক এবং আমলকারী হন তাহলে রকমারি’র বেশি চলা পলিটিকসের একজন ধরাশায়ীও হবেন আপনি। সাহিত্য তো সেই কারণেই গ্রেট যেহেতু কম লোকে তা পড়ে। হুমায়ূন যদি গ্রেট হইয়া থাকেন তবে তার জনপ্রিয়তার কারণে তিনি গ্রেট হন নাই- এই কথাটি স্বীকার করার সময় এসেছে আপনাদের। সেক্যুলার হওয়াটা ধর্মপ্রধান দেশে জনপ্রিয় বিষয় যেহেতু না, আপনাদের বইও তেমন জনপ্রিয় হবে না- সেইটাই কি স্বাভাবিক না? সো রকমারি যখন একটা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আবহ তৈরি করে আপনাকে প্রতিযোগিতায় নামাচ্ছে, সেক্যুলার লেখক হিসেবে আপনার ভাবনাটি আসলে কী এখন? এই প্রতিযোগিতায় ঢুকবেন নাকি অন্য কিছু করবেন? আছে কোনো ভাবনা?

[৩] রকমারির ধর্মভিত্তিক বইয়ের লেখকদের ‘আলো ছড়াচ্ছেন’ বিজ্ঞাপন একটা মতাদর্শ ভিত্তিক স্টেটমেন্ট। কাজেই পলিটিকস। সেক্যুলাররা আলো ছড়াচ্ছেন দিলেও ভারসাম্যবাদী রাজনৈতিক বক্তব্যই হয় ওইটা। বইয়ের বাজারকে ধর্মভিত্তিক ও সেক্যুলার এই দুই আলোতে বিভক্ত রকমারিই করছে। সুতরাং এ বিষয়ে সাবধান থাকার দরকার আছে। বই একটা প্রচার মাধ্যম। এই মাধ্যমে আপনি কী ছড়াবেন তা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক এজেন্ডা দিয়ে নির্ধারিত হয়। প্রথমার রাজনৈতিক এজেন্ডা আর রকমারির রাজনৈতিক এজেন্ডা দুই রকমই হবে। তার বিপরীতে আপনাকেও রাজনৈতিকই হয়ে ওঠতে হবে। জনপ্রিয়তা প্রচার একটা আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক অ্যাক্ট। এই রাজনীতিকে পাল্টা জনপ্রিয়তা দিয়ে সাইজ করতে আপনি পারবেন না। আপনাকে অন্য কিছুই করতে হবে। সেইটা কী? ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত