প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল: পাকিস্তানের ‘দুর্নীতি’র কথা জানলে দুর্নীতিও লজ্জা পাবে!

আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল: খুব অবাক লাগে এখনো এ দেশের একটি অংশের পাকিস্তানপ্রীতিতে কোনো ঘাটতি নেই। দেশের ইতিবাচক সংবাদকে কটাক্ষ করে তির্যক মন্তব্য করে। কিন্তু পাকিস্তানকে নিজের দেশ মনে করে তাদের ব্যর্থতা বা সমালোচনার জবাব দিতে সদা প্রস্তুত থাকে। দেশের অগ্রযাত্রা নিয়ে গর্ব করার মতো উদারতাও তাদের নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে থাকলে ভালো হতো বলে আফসোস করা বাংপাকিরা বোধহয় জানে নাÑ পাকিস্তানিরা কী অবস্থায় আছে। পীর, মোল্লা, সেনাবাহিনী ও ধর্মীয় নেতারা পাকিস্তানের ধর্মান্ধ জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ন্ত্রণ না বলে শোষণ বলাই শ্রেয়।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাকিস্তান এ যাবৎ যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও ঋণ নিয়েছে, তার দ্বিগুণ ক্ষতি/ব্যয় হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা ও সামরিক খাতে। অনিয়ম ও জোচ্চুরির উদাহরণ দিচ্ছি : পাকিস্তানের ১৭টি বড় ডেইরি ফার্মে অনুসন্ধান করে দেখা যায় ৯টি কোনো খামারির কাছ থেকে ১ লিটার দুধও ক্রয় করে না, অথচ খাঁটি দুধ বিক্রি করে। অন্যান্য কোম্পানি আহরিত দুধের চারগুণ বেশি দুধ বিক্রি করে। পাকিস্তানের দুর্নীতির কথা জানলে দুর্নীতিও লজ্জা পাবে। এ যাবৎপ্রাপ্ত বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের এক চতুর্থাংশ অর্থ পাকিস্তানেই আসেনি। ২০০৭ সালে এ ঘটনা আলোচনায় এলে দুই শতাধিক নেতা ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সকল দল এক জোট হয়ে তদন্ত বন্ধ করতে বিল পাস করে।
ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছিলো। ব্রিটেনের এ্যাসেট রিকভারি ফার্ম ব্রডশীট সফলভাবে কাজও করেছিলো। প্রাথমিক পর্যায়ে দেড়শ কোটি রুপি লণ্ডন থেকে ফেরত আসার কথা। কিন্তু তথ্য ফাঁস-সহ অজ্ঞাত কারণে সব ভেস্তে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্রডশীট ক্ষতিপূরণ চেয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লন্ডনে মামলা করে। পাকিস্তানের অধঃপতনের উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। ঋণের বোঝা বাড়তে বাড়তে দেউলিয়া হওয়ার অবস্থা। সম্প্রতি সৌদি আরবের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে জাকাত ফান্ডের টাকা এনেছে ইমরান খান। বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার শর্তে সাহায্য করার কথা জানিয়েছে। তবে এই দুরবস্থার মধ্যেও অনুভূতির ঘাটতি নেই। মুহাম্মদ লেখা ভিজিটিং কার্ড ডাস্টবিনে ফেলায় কিছুদিন আগে বড় আন্দোলন হয়েছে। তারপর শুরু হয় ফ্রান্স দূতাবাস বন্ধের আন্দোলন। আমেরিকা, ঈসরাইলের বিরুদ্ধে তো কর্মসূচি বলতে গেলে নিয়মিত ঘটনা। অথচ বেশিরভাগ জনগণ রুটি ডাল ছাড়া মাসে একবার মাংস খেতে পায় না।

ধর্মের অপব্যবহার ও উগ্রবাদের ফলাফল কী হয় তার শিক্ষা নিতে পাকিস্তান উৎকৃষ্ট উদাহরণ। যে পাকিস্তান আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করে শোষণ করেছিলো, যাদের হাতে এ দেশের ৩০ লাখ শহীদের দাগ, তারা আজ পরিণতি ভোগ করছে। কিন্তু এখানে রেখে যাওয়া বাংপাকিদের রক্তের ধারা পরিবর্তনের যে ইচ্ছা তারা পোষণ করেছিলো, তাতে সফল হয়েছে। এক মার্কিন আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, পাকিরা নিজেদের মাকেও বিক্রি করতে পারে। পাকিদের ক্ষেত্রে কতোটা সত্যি জানি না, কিন্তু এ দেশীয় পাকিদের মাতৃভূমির প্রতি বিদ্বেষ থেকে কথাটির মর্ম উপলব্ধি করা যায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত