শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২১, ০৩:২৬ দুপুর
আপডেট : ৩০ মে, ২০২১, ০৩:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] বাঘারপাড়ার গাইদঘাটে কৃষকের প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা জমিতে মাচায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজের বাম্পার ফলন

আজিজুল ইসলাম: [২] মাঠে মাচায় তরমুজের বাম্পার ফলন দেখে আনন্দে ভরে গেছে কৃষকদের মন। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও তরমুজের ভালো দাম পাচ্ছে না কৃষক। শুরুতে ১৩‘শ টাকা মন বিক্রি হলেও মাঝে ৪‘শ থেকে ৫‘শ টাকা মন বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৬‘শ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। তাও ফসল অনুযায়ী ব্যাপারী মিলছে না। যে কারনে মাঠকে মাঠ তরমুজ পড়ে রয়েছে।

[৩] সমগ্র মাঠে এবছর অমল বিশ্বাস, নারায়ন বিশ্বাস, নাজমুল ইসলাম, হরেন্দ্রনাথ সেন, হারান বিশ্বাস, বরুন কুমার কর, মিলন বিশ্বাস, প্রশান্ত মন্ডল, সুজন বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, উৎপল মন্ডল, কালীপদ বিশ্বাস, সাইদ খান, ইদ্রিস মোল্যা, নিশিকান্ত মন্ডল, সুবোধ শিকদার, অমল বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম খান, প্রিয়তোষ সেন, বাসুদেব মন্ডল, দয়াল মন্ডল, অপূর্ব বিশ্বাস, অনিমেশ সেন, সাধন বিশ্বাস, ছালাম শিকদার, আমির আলী’সহ ৮২ জন কৃষকের ক্ষেতে প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ করেছেন।

[৪] গত ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি থেকে বীজ রোপন শুরু করা হয়। অর্থাৎ বীজ রোপনের ৮০ দিন পর ফসল উত্তোলন শুরু করা হয়। অধিকাংশ কৃষক এবছর ভারতীয় বীজ সাগর কিং, ব্লাক কিং, ফাহারা, মাহাবুলী জাতের তরমুজের বীজ রোপন করেছেন।

[৫] সরেজমিনে গাইদঘাট মাঠে ট্রাকে তরমুজ উঠানোর সময় আমিরুল ইসলাম নামের ঢাকার এক ব্যাপারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, শুরু থেকে বিগত ৫ বছর ধরে এ মাঠের মাল আমি নিচ্ছি। এবছর প্রায় ১৮‘শ মন মাল আমি নিয়েছি। ১ম পর্যায়ে ১৩‘শ টাকা মন দরে দাম দিয়েছি। মাঝে ৪‘শ থেকে ৫‘শ টাকা মন দরে দাম দিয়েছি। বর্তমানে ৬‘শ টাকা মন দরে দাম দিচ্ছি। আমি প্রতিদিন দেড়‘শ থেকে আড়াই‘শ মন মাল নিচ্ছি। আজও প্রায় দেড়‘শ মন মাল যাচ্ছে।

 

[৬] দাম কম হলেও আমিরুল ইসলামসহ অনেক কৃষকের ধারনা গাইদঘাটের তরমুজ এবছর কোটি টাকার উর্ধে বিক্রি হবে। কৃষক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, প্রতি বিঘা তরমুজের জমিতে সর্ব সাকুল্যে ৫৫/৫৬ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তরমুজের ঐ একই মাঁচায় আরো ৩টি ফসল হয় তাই ঐ সব ফসলের খরচ পোষায়ে যায়। যতো খরচই হোক তবুও এ তরমুজের চাষ লাভজনক। প্রতিটি তরমুজের ওজন ২ থেকে ৬/৭কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩৩ শতাংশের এক বিঘা জমিতে ১৪০/১৫০ মন তরমুজ ফলে থাকে। বাজার মূল্য এভাবে থাকলেও গাইদঘাট মাঠের তরমুজ এবছরও কোটি টাকার উর্ধে বিক্রি হবে বলে অধিকাংশ কৃষক তা মনে করেন।

[৭] উপজেলা কষি অফিসার জাহিদুল আলম বলেন, উপজেলার গাইদঘাট মাঠেই গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ বেশি হয়েছে। তবে উপজেলার জহুরপুর, মথুরাপুর ও লক্ষীপুর মাঠে বেশকিছু জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ হচ্ছে।

[৮] এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান গাইদঘাট মাঠের সঠিক হিসাব দিতে না পারলেও তিনি বলেন, গাইদঘাট মাঠে ইতিপূর্বে ১০/১২ বিঘাতে তরমুজের চাষ শুরু হয়েছিল। এখন প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা জমিতে হচ্ছে তরমুজের চাষ।

[৯] কৃষক বরুন কুমার কর, মিলন বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, উৎপল মন্ডল, কালীপদ বিশ্বাস, সাইদ খান, ইদ্রিস মোল্যা, নিশিকান্ত মন্ডল, সুবোধ শিকদার, অমল বিশ্বাস, হরেন্দ্রনাথ সেন, রবিউল ইসলাম খান, দয়াল মন্ডল, হারান বিশ্বাস, সাধন বিশ্বাসসহ অনেকে জানালেন, এভাবে কৃষক লাভবান হলে আগামী বছর সমগ্র মাঠেই এই গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়