প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে ঢাকাকেন্দ্রিক বুর্জোয়া আদল থেকে বের করে পল্লীগ্রামে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন : মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম

আমিরুল ইসলাম : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রয়াণ দিবসে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ১৯৮১ সালের মে মাসের ৩০ তারিখ চট্টগ্রাম সার্কিট হাইজে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বীরউত্তম জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। কারণ ওই আমলের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বীরউত্তম মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে একদল অফিসারও সৈনিক বিদ্রোহ করেন। বিদ্রোহ করে প্রেসিডেন্টের সার্কিট হাউজে এসে তাকে হত্যা করেন। সেই থেকে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান হিসেবে চিনি। তিনি ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সালের মে মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমরা আজকে তার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে তথা মৃত্যুদিবসে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক, তথা সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্তে¡ও রাজনীতিতে এসে জনগণের মন জয় করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার উত্তরসুরীগণের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ মাসের দীর্ঘ মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে তিনি সেক্টর কমান্ডার এবং ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্বাধীন বাংলাদেশের উপ-সেনাবাহিনী প্রধান হয়েছিলেন। সেখানেও তিনি সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে গৌরবজ্জ্বল ভ‚মিকা রেখেছিলেন। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন। তিনি আইন করে বাকশাল বাতিল করেন এবং নতুন করে আইন করেছিলেন, যেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, নির্বাচনে অংগ্রহণ করতে পারে।

জিয়াউর রহমান উন্নয়নের ধারা পরিবর্তন করেছিলেন। অর্থাৎ একদলীয় সমাজতান্ত্রিক ধারা থেকে বদল করে উন্মুক্ত অর্থনীতি চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে গবেষণার জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য তিনি সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তার পরবর্তী সময়ে জেনারেল এরশাদ সাহেব এটা বাস্তবায়ন করেন।

তিনি বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান পল্লী বা গ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রচুর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। উপক‚লীয় এলাকার উন্নয়নের জন্য উপক‚লীয় উন্নয়ন বোর্ড, হাওর এলাকার উন্নয়নের জন্য হাওর উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ইত্যাদি প্রকল্প তিনি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নিজে গ্রামে মানুষের সঙ্গে মিশতেন এবং হাঁটতেন। তার আমলে সামরিক বাহিনীরও একটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ তিনি নেন, যেটা আজকে সুফল দিচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত