প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তরুণীকে ডেকে আনা হয় কৌশলে, ঘরে ঢুকতেই শুরু নির্যাতন

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতে কয়েকজন মিলে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, টাকা নিয়ে বিবাদ মেটানোর কথা বলে তাকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনা হয়েছিল।

বেঙ্গালুরু পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ মেটানোর কথা বলে মেয়েটিকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনা হয়েছিল। যারা তাকে ডেকে আনেন তাদের বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তার ওপর চরম সহিংসতা শুরু হয়। অভিযুক্তরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং যৌন ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। তারা এসব দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে ৩-৪ জন যুবক শারীরিক ও বিকৃতভাবে যৌন নির্যাতন করছে। ভিডিওটি ধারণ করা হয় ভারতে। যৌন নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি সেই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ শুক্রবার (২৮ মে) মেয়েটিকে কেরালা থেকে উদ্ধার করে। তাকে বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইম ৮-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার মূলহোতা রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়সহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

এর আগে পাঁচ নির্যাতনকারীর ছবি প্রকাশ করে তাদের সন্ধান চেয়ে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল আসাম পুলিশ।

এ বিষয়ে শুক্রবার (২৮ মে) সকালে জাগো নিউজকে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বেঙ্গালুরু পুলিশ নারীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। বেঙ্গালুরু পুলিশকে বার্তা দেয় বাংলাদেশ পুলিশ। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় করা মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় বাংলাদেশি আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

ডিসি বলেন, ওই ভিডিওতে থাকা যৌন নির্যাতনকারী একজনের চেহারার সঙ্গে ঢাকার এক যুবকের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। ফেসবুক আইডি তদন্ত করে তার আসল নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে বাংলাদেশ পুলিশ। এরপর তার মা ও মামাকে ভিডিওটি দেখানো হলে প্রথমে তারা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, ভিডিওতে তার ছেলে রিফাতুল ইসলাম হৃদয় রয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিলের মগবাজারের স্থানীয়রাও হৃদয়কে শনাক্ত করে। স্থানীয়ভাবে সে টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত। তার বয়স ২৬ বছর।

টিকটক হৃদয়ের মা ও মামা পুলিশকে জানান, উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে চার মাস আগে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর থেকে বাসার কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না।

ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, হৃদয়ের মামার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হৃদয়ের ভারতীয় নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তখন সে জানায়, গত তিন মাস আগে ভারত গেছে। যৌন নির্যাতনের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই ঘটনা ঘটে ১৫ থেকে ১৬ দিন আগে।

হৃদয় আরও জানায়, ভিডিওর ভিক্টিম একজন বাংলাদেশি তরুণী। তার বয়স ২০-২২ বছর হবে। ঢাকায় তার বাসা। ওই তরুণীর আরও পরিচয় জানতে চাওয়া হলে হৃদয় হোয়াটসঅ্যাপে ভিক্টিমের একটি ভারতীয় পরিচয়পত্র আধার কার্ড পাঠায়।

হৃদয় জানায়, যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তার কয়েকজন বন্ধুও জড়িত। ঘটনাটি ঘটে ভারতের কেরালায়। ওই ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে আগে থেকেই তার পরিচয় ছিল বলে জানায় হৃদয়।
আগামবার্তা ও জাগোনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত