প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শীতল তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ফাইজারের টিকা শুধু রাজধানীতেই দেওয়া হবে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শাহীন খন্দকার: [২] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক আরও বলেন, ঢাকার সব কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা প্রদান সম্ভব হবে না। কারণ সংরক্ষণাগার থেকে ঢাকার বর্তমান সব টিকাকেন্দ্রে পরিবহনের ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে।

[৩] এই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের এখনও পলিসি তৈরি হয়নি। ঢাকার কোন কোন সেন্টারে এ টিকা দেওয়া হবে, কারা ফাইজারের টিকা পাবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, এটা এখনও প্ল্যানিং পর্যায়ে আছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এ টিকা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে হয় অতি শীতল তাপমাত্রায়, যে ব্যবস্থা বাংলাদেশে অপ্রতুল। এই কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করাও কঠিন। সে কারণেই শুধু ঢাকার কয়েকটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে এই টিকাদান কর্মসূচি।

[৪] ইতোমধ্যে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামীকাল দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের কাছ থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি দেড় লাখ ডোজ কোভিড টিকা বাংলাদেশে পৌছাবে।

[৫] পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা দেখানো ফাইজারের টিকাও নিতে হবে দুই ডোজ করে। প্রথম ডোজ দেওয়ার ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ। ১২ বছরের বেশি বয়সীরাই এ টিকা নিতে পারবে।

[৬] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ফাইজারের টিকার দুই লাখ ডোজ টিকা সংরক্ষণের সক্ষমতা তাদের আছে। সক্ষমতা বাড়ালে ১০ লাখ ডোজ টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা সংরক্ষণ করতে হয় হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এ টিকা সংরক্ষণ করতে আল্ট্রা কোল্ড ফ্রিজারের প্রয়োজন হবে। আর পরিবহনের জন্য থার্মাল শিপিং কনটেইনার বা আল্ট্রা ফ্রিজার ভ্যান প্রয়োজন হবে। তবে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হলে এ এই টিকা ৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকবে। রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ টিকা দুই ঘন্টা টিকবে।

[৬] এই টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতিই’ তারা নিয়েছেন।

[৭] তিনি বলেন, এটা আল্ট্রা-লো ফ্রিজারেই রাখতে হবে। সেজন্য আল্ট্রা-লো ফ্রিজার প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো সমস্যা না হয়। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে টিকার চালান নেওয়া হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংরক্ষণাগারে। ফাইজার-বায়োএনটেক কন্টেইনারেই ড্রাই আইস দিয়ে মাইনাস টেম্পারেচারে টিকা পরিবহনের ব্যবস্থা করে।

[৮] বিমানবন্দর থেকে আমরা সেগুলো আমাদের স্টোরে রাখব। কত টিকা সংরক্ষণ করা যাবে, প্রসঙ্গে এই লাইন ডিরেক্টর বলেন তা নির্ভর করছে টিকার ভায়ালের ওপর। সিঙ্গেল ডোজ ভায়াল না হয়ে মাল্টি ডোজের হলে বেশি পরিমাণ টিকা সংরক্ষণ করা যাবে। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, বাংলাদেশে মাল্টিডোজের ভায়ালই আসছে। তিনি বলেন, আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত যে সক্ষমতা আছে, তাতে দুইলাখ ডোজ টিকা সংরক্ষণ করা সম্ভব। আরও টিকা আসলে প্রয়োজন অনুসারে আরও ফ্রিজার রেডি করা হবে। আমরাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে প্রায় আট থেকে ১০ লাখ ডোজ টিকা রাখার মত ফ্রিজারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে। এসব ফ্রিজার এখন অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

[৯] ডা. শামসুল হক বলেন, এই টিকা জমাট অবস্থায় আসবে এবং সেভাবেই সংরক্ষণ করা হবে। মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে টিকার ভায়াল রাখা হবে ৬ ঘণ্টা। তাতে সেটা আস্তে আস্তে গলে যাবে। এই গলানো অবস্থায় টিকা ১২০ ঘন্টা রাখা যায়। টিকা দেওয়ার দিন স্টোর থেকে সেটা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, কেন্দ্রে নেওয়ার পর ডাইলুয়েন্টের সঙ্গে মিশিয়ে এই টিকা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। ডাইলুয়েন্ট মেশানোর পর ছয় ঘণ্টার মধ্যে এ টিকা প্রয়োগ করতে হবে। যে ডাইলুয়েন্ট লাগবে, সেসব মেটেরিয়ালস আমরা তৈরি করে রেখেছি। ট্রেইনিং মেটেরিয়ালসও আমাদের তৈরি হয়ে গেছে। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত