প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই সহোদরসহ মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য আটক

সুজন কৈরী: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, ফেনীর দাগনভুঁইয়া এবং ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে মানবপাচাকারী চক্রের ৪ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। আটকরা হলেন- দুই সহোদর কামরুল হাসান চৌধুরী (৪০)ও মঈনউদ্দীন হাসান চৌধুরী (৪৪), নিজাম উদ্দিন মাসুদ (৩৮) এবং পল্টনের ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক জালাল উদ্দীন (৫৫)।

বৃহস্পতিবার সকালে থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ, চেকবই ও সিল জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বলেন, একজন ভুক্তভোগী ব্যাটালিয়নে অভিযোগ করেন যে, ডিউটি ৮ ঘন্টা, থাকা ফ্রি, খাওয়া নিজের, বেতন ৫৫ হাজার টাকা এবং এক বছর পর ছুটির জন্য বিমান ভাড়া কোম্পানী দিবে শর্তে ক্রোয়েশিয়ায় শীপ রেষ্টুরেন্টের ভাল কাজের ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারকারী চক্র তাকে ক্রোয়েশিয়া যাওয়ায় রাজী করে। সেখানে যাওয়ার খরচ বাবদ চক্রের সঙ্গে তার ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতরা প্রথমে ভিক্টিমের ভারতীয় ভিসা তৈরির পর ক্রোয়েশিয়ার ভিসা তৈরির জন্য তাকে দিল্লীতে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর ৪৫ দিন মেয়াদি ক্রোয়েশিয়া ভিসা টাইপ সি ১ ভিসা ভিক্টিমের জন্য অনুমোদন করানো হয়। সারাবিশ^ করোনা মহামারীতে বিপর্যস্থ হলেও মানবপাচারকারীরা ভিক্টিমকে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তার্কিশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার জাগরিব এলাকায় পাঠায়। ক্রোয়েশিয়ায় যাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি দালাল সাইফুল ইসলাম (৪২) ভুক্তভোগীকে বিদেশি দালালদের নিকট ১ হাজার ৫০০ ই্উরোতে বিক্রি করে। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তিনি মানবপাচারকারীদের কবলে পড়েছেন। বিদেশি দালালরা তাকে স্লোভেনিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর জন্য তার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। তখন ভিক্টিমের পরিবার কামরুল হাসান চৌধুরীর একাউন্টে ৩ লাখ টাকা পাঠায়। এরমধ্যে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, বিদেশি দালালরা ভুক্তভোগীদের স্থল পথে স্লোভেনিয়া হয়ে ইতালি পাঠায়। ওই স্থল পথ অত্যন্ত দূর্গম, প্রতি পদে মৃত্যুর ভয় রয়েছে। আর যারা স্থল পথে যেতে আগ্রহী হয়না তাদের স্পীডবোটে করে জল পথে ইতালি পাঠায়। তখন ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে ফেরত আসার ব্যবস্থা করতে কামরুল হাসান চৌধুরীকে অনুরোধ জানায়। এরপর ভুক্তভোগীকে বিদেশি দালালরা নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী পালিয়ে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাজেশন ফর মাইগ্রেশন সংস্থায় যোগাযোগ করে। তাদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী গত ১২ মে কাতার এয়ারওয়েজ বিমানে করে দেশে ফিরেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বলেন, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি দল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে বৃহস্পতিবার সকালে কামরুল ও মঈনউদ্দীন এবং নিজাম উদ্দিনকে আটক করে। এছাড়া বিকেলে রাজধানীর পল্টন এলাকার ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক জালাল উদ্দীনকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা মানবপাচারের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে সীতাকুন্ড থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

র‌্যাব জানায়, ক্রোয়েশিয়ায় অবস্থানরত সাইফুল ইতোপূর্বে র‌্যাব-৩ এর হাতে গ্রেপ্তার হয়। তার নামে দাগনভূঁঞা থানায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ওই মামলায় জামিন নিয়ে তিনি ক্রোয়েশিয়ায় পালিয়ে যান।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত