প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা সংকট উত্তরণে আগামী বাজেটে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ১০ প্রস্তাব

শাহীন খন্দকার: [২] বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ওই প্রস্তাবনা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, খাদ্য-কর্মসংস্থান এবং কৃষি ও গ্রামীণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে বাজেটে। সেখানে বলা হয়েছে, জনগণের স্বাস্থ্যকে সম্পদ বিবেচনা করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘গণস্বাস্থ্য’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

[৩] করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। ১৮ বছরের উপর দেশের সকল মানুষকে চলতি বছরের মধ্যে করোনা টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত টিকা আমদানির পাশাপাশি দেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

[৪] আরো বলা হয়েছে, কৃষি ও গ্রামীণ খাতের পুনরুজ্জীবন ও উৎপাদন নিশ্চিত করতে উন্নয়ন বাজেটের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ দিতে হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ মেট্টিক টন ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র প্রকল্প, মৎস্য, দুগ্ধ ও পোল্ট্রির মত উৎপাদনশীল উদ্যোগকে আর্থিক প্রণোদনা ও সাহায্য নিশ্চিত করতে হবে।

[৫] মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দিতে হবে। পাদুকা শিল্পের মত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকে সহযোগিতা দিতে হবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেকারদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার প্রদান এবং আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগসমূহকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে আসা নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, মেহনতি-দিনমজুর ও গরীব আড়াই কোটি পরিবারকে আগামী ৬ মাস প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদানে বরাদ্দ রাখতে হবে।

[৬] শ্রমজীবী ও স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য স্থায়ী গণবন্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাজেটে পরিস্কার নির্দেশনা ও বরাদ্দ রাখতে হবে। রাজস্ব ব্যয় তথা সরকার পরিচালনার খরচ কমাতে হবে। বিলাসবহুল দ্রব্যের আমদানী ও রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধ করতে হবে। সামরিক খাতসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমিয়ে আনতে হবে।

[৭] প্রস্তাবনায় কালো টাকা সাদা করার নীতি বাতিল করে কালো টাকা, অপ্রদর্শিত অর্থ-সম্পদ ও বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ধনী ও বিত্তবানদের উপর বর্ধিত কর আরোপ করে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। মেগা প্রকল্পে জবাবদিহিবিহীন ব্যয় বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে। পরিবহন ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বাড়ী ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া সকলস্তরে মধ্যস্বত্ত্বভোগী ও বাজার সিন্ডিকেটসমূহের দৌরাত্ম বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

[৮] বিবৃতিতে করোনা মহামারিতে জাতীয় অর্থনীতি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে যে বহুমুখী অভিঘাত সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণ, জনগণকে সুরক্ষা প্রদান ও দারিদ্রসীমার নীচের প্রান্তিক জনগণের মানবিক অর্থনৈতিক জীবন নিশ্চিত করাকেই আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত