প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতীয় ভ্যারিয়েণ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতালে ১১৪ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড ইউনিট চালু

শাহীন খন্দকার: [২] জটিল শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য সেণ্ট্রাল অক্সিজেন ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার লিটারে উন্নীত করা প্রয়োজন বললেন পরিচালক

[৩] জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যার যক্ষ্মা বা টিবি হাসপাতাল । ১৯৬২ সালে হাসপাতালটি চেষ্টের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স চালুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের পরে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে এনটিপি প্রোগ্রামের আওতায় এই হাসপাতালের কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে ৪০০ শষ্যায় উন্নতি হয় এবং বর্তমানে ৬৭০ শয্যার হাসপাতালে সম্পৃক্ত হয়েছে জাতীয় অ্যাজমা সেন্টার।

[৪] তিনি বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে সারাদেশ থেকে রোগী আসছে এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। সার্জারিসহ আউটডোরে প্রতিদিন একহাজার থেকে বারোশত রোগী। শুধু তাই নয় নেবুলাইজারসহ প্রাথমিক চিকিৎসা বিনাখরচে দেওয়া হচ্ছে।
ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৭ সালে এটি জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পরিণত হয়। হাসপাতালের নিজস্ব জমিতে ২০০৪ সালে পাঁচতলা ভবনে জাতীয় অ্যাজমা সেন্টার তৈরি করা হয়।

[৫] রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত এই হাসপাতালকে ৬৭০ থেকে দেড় হাজার শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। এর ফলে আরও বেশি রোগীর সুলভে সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীও এখানে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ও গবেষণা করার সুযোগ পাবেন। এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. সাইদুল ইসলাম।

[৬] বক্ষব্যাধি চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য এখানে ইনস্টিটিউটও রয়েছে। যেখানে বক্ষব্যাধি সংক্রান্ত ছয়টি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিও নিতে পারেন শিক্ষার্থীরা। এখানে রেসপিরেটরি মেডিসিন ও থোরাসিক সার্জারি বিভাগ রয়েছে। এছাড়া রেডিওলজি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ন্যাশনাল টিউবার কিউলোসিস বিভাগ রয়েছে।

[৭] তিনি আরও জানান, হাসপাতালের নিজস্ব ২৪ একর জমিতে পৃথক ৬টি নতুন ভবনে ২০ তলা করে ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিকে অত্যাধুনিক এবং কোন রোগী যাতে ফিরে না যান সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হাসপাতালের অবকাঠামো বর্ধিতকরণসহ লোকবল চেয়ে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে ১৫০০ শয্যায় উন্নতিকরণ সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে অ্যাজমা ভবনের ৫ তলা ভবনটিকে ১০ তলায় উন্নতিকরণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এই বর্ধিত পরিসরে চিকিৎসা সেবা ও গবেষণার সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। হাসপাতালের অবকাঠামো ও মানোন্নয়নের বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

[৮] পরিচালক বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরিধি বাড়ায় নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আসবে, যা বক্ষব্যাধি সংক্রান্ত রোগ নির্ণয় ও গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করবে। বক্ষব্যাধি সংক্রান্ত শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও উন্নত হবে। একইসঙ্গে বিদেশে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতাও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

[৯] হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. সাইদুল বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের চিকিৎসক রয়েছেন প্রায় ১১৯ জন। নার্স ও অন্যান্য স্টাফের সংখ্যা ৪৪৫ জন। কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে ১৮৭জন, কোভিডের কারণে ১৯ জন চিকিৎসক ও ১০০ জন নার্সকে বিভিন্ন হাসপাতালে দিতে হয়েছে।
পরিচালক আরও বলেন, একমাত্র টারশিয়ারী হাসপাতাল হিসাবে করোনাকালীন এই সময়ে আরও দুটি সিটিস্ক্যানমেশিনসহ ভারিযন্ত্রপাতির ব্যবস্থা হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও গতিশীল হবে।

[১০] পরিচালক বলেন, ‘ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। স্পেশালাইজড হাসপাতাল হিসেবে সব সুযোগ সুবিধাই এখানে থাকবে। এখান থেকে চিকিৎসকবৃন্দ স্নাতকোত্তর কোর্সসহ বক্ষ্যব্যাধির ওপর ডিপ্লোমা, এফসিপিএস, এমএসএফসিপিএস, সার্জারিকোর্স এর উচ্চতর ডিগ্রীসহ গবেষণা করছেন। জটিল শ্বাসক্যান্সারের উপস্বর্গ মূলক চিকিৎসায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে। যেমন ফুসফুসে টিউমার থেকে এন্ড্রোসকপির মতো যন্ত্রের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে মাংস কেটে বাইয়োস্কপি নেওয়া, ফুসফুস ও শ্বাসনালির ভিতরে টিউমার গলিয়ে পরিষ্কার করা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাসনালিতে স্ট্যাণ্ড বসিয়ে শ্বাসনালিকে সচল রাখার চিকিৎসাও এখানে হচ্ছে। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত