প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিন্ডিকেট ক্রাইম এবং মাদক নির্মূলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন গাজীপুরের এসপি শফিউল্লাহ বিপিএম

আতিকুর রহমান : [২] সদ্য যোগদান করা গাজীপুরের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বিপিএম সিন্ডিকেট ক্রাইম এবং মাদক নির্মূলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

[৩] এছাড়া সোসাল ক্রাইম ও ফিনান্সিয়াল ক্রাইম নির্মূলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে সিসি টিভি স্থাপন , আইপি ক্যামেরা স্থাপন, বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করন, মোবাইল টীম গঠন ইত্যাদি।

[৪] গত ২১ মার্চ এ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেই তিনি এসব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, এবং তা বাস্তবায়নের জন্য মিডিয়াকর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ লোকজনের সাথে মত বিনিময় করছেন। আমাদের নতুন সময়ের সাথে এক একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

[৫] তিনি বলেন, রাজধানীর সন্নিকটের গাজীপুর জেলায় দেশের সব এলাকার লোকজনের বসবাস থাকার কারনে এখানে ক্রাইমও সংগঠিত হয় দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে বেশী। এবং এখানকার অপরাধের ধরনও আলাদা। ক্লু লেস ক্রাইম এবং চুরি ডাকাতির সংখ্যা অন্যান্য ক্রাইমের চেয়ে বেশী হয়। তিনি বলেন, সোসাল ক্রাইম বা সামাজিক অপরাধ সংগঠিত হলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের ক্ষতি বেশী হয়ে থাকে।

[৬] এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য দায়িত্বশীল লোকদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে ক্রাইম নিয়ন্ত্রনের জন্য। পুলিশের একার পক্ষে সব অপরাধ শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব না। তবে তা নিয়ন্ত্রনের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

[৭] তিনি আরো জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে জেলার সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিসিটিভি ও আইপি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে সমীক্ষার কাজ চলছে। প্রতিটি থানা এলাকায় প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ৩০টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।

[৮] অন্যদিকে চুরি ডাকাতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক মোবাইল টীম সক্রিয় করা হচ্ছে। প্রতিটি মোবাইল টীমের মধ্যে পুলিশ লাইন্স, থানা ও ডিবি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে যা একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্বক্ষনিকভাবে নজরদারী করবেন। এতে করে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে সব পুলিশ সদস্য ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং যারা অপরাধ নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করবে, তাদেরকে পুস্কৃত করা হবে।

[৯] মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষ্যে মাদক নিয়ন্ত্রন সম্ভব না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি ভ’মিকা রাখতে হবে। এছাড়া যেসব লোক মাদক সেবন করে, তাদের পরিবার এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও ভ’মিকা রয়েছে। তবে তিনি আরো জানান যে, বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নের মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়িদের তালিকা আপডেট করা হচ্ছে এবং তাদেরকে নজরদারীর মধ্যে আনা হচ্ছে।

[১০] পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম) ২৪তম বিসিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। তিনি খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছয় বছর এবং পুলিশ সুপার হিসেবে প্রায় তিন বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনা ও সুন্দরবন এলাকার জলদস্যু নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন এ চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত