প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফ আকবর: জীবনে ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকা সফলতম একজন মানুষ আমি

আসিফ আকবর: গানের জগতে ঢোকার রিস্কটা কেন নিলাম জানিনা। এই একটা জায়গায় আমার লিমিটেশন সর্বোচ্চ। সঙ্গীত গুরুমুখী বিদ্যা, যদিও এ অঙ্গনের মানুষের ব্যক্তিগত চলনবলনের সাথে আসলে বিদ্যাটা যায়না। পাশের দেশ ইন্ডিয়ায় মানুষ যেখানে শিল্পীদের দেবতার মত শ্রদ্ধা করে বাংলাদেশে হয় ঠিক তার উল্টো। সীমানার তিনদিকে অবস্থিত ইন্ডিয়া থেকে মুভি গান নাটক চাল ডাল বানের পানি অস্ত্র ড্রাগ লাশ করোনা সবই এই দেশে এসেছে। আসেনি শুধু শিল্পী এবং শিল্পীর প্রতি সৌজন্যতাবোধ। মরে গেলেও এই দেশের শিল্পীরা তেলাপোকার মত ধ্বংসহীন নেটিজেনদের হাত থেকে রক্ষা পায়না।

কেন বাংলাদেশের শিল্পীরা নিজ দেশের মানুষের কাছে সম্মান পায়না এই বিষয়টা নিয়ে আমি ব্যাপক গবেষনা করেছি। প্রথমে নিজেকে সঙ্গীতের বাইরের লোক ধরেই আমার এই গবেষনা। বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন আমার, দেশের সব প্রজাতির মানুষের সাথে মেশার সৌভাগ্য হয়েছে। পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা থেকে বিচিত্র মানুষের সাথে মেলামেশা করেছি। এই দেশের মানুষের মধ্যে বিভক্তির যে বিষাক্ত বীজ রোপিত হয়েছে যুগে যুগে, এখন সেটির সফল অঙ্করোদগম ঘটেছে সর্বত্র। তারকারা মিডিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক আসার পর প্রাইভেসী আর সিক্রেসী শব্দগুলো খুল্লামখুল্লা হয়ে গেছে। একসময় তারকাদের খবর পাওয়ার জন্য মানুষ উদগ্রীব হয়ে পত্রিকা টিভির আশ্রয় নিতো, এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সস্তা আর সহজলভ্য। তারকাদের লাইক কমেন্ট পাওয়া নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির কারনে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সব সমান। যে বোবা সে সবচেয়ে বড় আলোচক, যে বয়রা সে সবচেয়ে ভাল শ্রোতা, যে অন্ধ সে সবচেয়ে ভাল দর্শক। এভাবে একটি অতিসমালোচনা প্রবন জাতির বিকাশ ঘটেছে এই জনপদে।

শিল্পীদের নিয়ে সাধারন মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। শিল্পীরা স্বীয় যোগ্যতায় ক্যারিয়ার তৈরী করলেও নিজেদের আইকনিক ব্যক্তিত্ব তৈরী করতে পারেনি। আমি শো-বিজে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাদের সাথে মিশেছি। স্বার্থপরতা আর ধান্দাবাজীর সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়রা আসলে শো-বিজেই আছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ধরা পরার আগ পর্যন্ত সবাই এখানে ত্রুটিহীন ফেরেশতা, এমনকি আমিও। শিল্পমান সমঝদার আর শিক্ষাদীক্ষার অভাব এখানে প্রকট, ফ্যামিলি ব্যাগ্রাউন্ড বাদ দিলাম। সহজাত প্রতিভার কারনে এদেশে বহু শিল্পী প্রতিষ্ঠা পেলেও ব্যক্তিত্বের অভাবে ঘৃনার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মানুষের অন্তিম যাত্রায় ব্যক্তিত্বটাই সবচেয়ে বেশী গ্রহনযোগ্যতা পায়। আমাদের শো-বিজে ব্যক্তিত্ববান তারকা খুবই কম, ধান্দাবাজ ৯৯%। তারকাদের দেখতে আমারও ভাল লাগতো, এখনো লাগে। তবে সেই তারকার ব্যক্তিত্ব হতে হবে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবদুল হাদী ভাই কিংবা শ্রদ্ধেয় মরহুম শাহনাজ রহমতউল্লাহ আপার মত। ব্যক্তিত্ব না থাকলে দুনিয়া কাঁপানো বড় শুয়োর কিংবা বুনো শুয়োর হলে এমনিই নেটিজেন তৈরী হয়। আমি ঝুঁকি নেয়া একজন সাধারন মানুষ থেকে তথাকথিত তারকা আসিফ। সরলতা মেধা বুদ্ধিমত্তা সাহস আমার আসল সম্পদ, তারকা খ্যাতি নয়। সোজা চলি সোজা ভাবি সোজা বলি- এটাই আমার ষ্টাইল। এ ষ্টাইলটা অবশ্য শো- বিজের সাথে যায়না। আমার রসকষহীন যৌক্তিক কথা বোঝার মত ব্যক্তিত্বের অভাব এখানে, বিভিন্ন ধরনের তারপিন তেলের স্রোতে আমি নালা নর্দমা খাল নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভেসে গেছি। আমার সোজা কথা কারো ভাল লাগেনা, আবার তারা মুখেমুখি হবার সাহসও রাখেনা। মামলাবাজ শুয়োরদের কথা অবশ্য আলাদা। স্নেহের রাব্বীর গাওয়া গানটা আমার গর্ধব হেটার্সদের জন্য উৎস্বর্গ করছি – আমিতো ভালা না ভালা লইয়া থাইকো…
ভালবাসা অবিরাম…
ছবি- আরিফ

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত