প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গত ১৫ মাসে দেশের ৩ কোটি ৩৩ লাখের বেশি পরিবারের কাছে ২,৩৩,৭৯৪ মে.টন নিত্যপণ্য সাশ্রয়ীমূল্যে বিক্রয়

তাপসী রাবেয়া: [২] বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালে মে পর্যন্ত ২,৩৩,৭৯৪ মে.টন পণ্য দেশের ৩ কোটি ৩৩ লাখ ২৩ হাজার ০৬ টি পরিবারের কাছে সাশ্রয়ীমূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে । এতে উপকৃত হয়েছেন ১৩ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, সয়াবিন তেল, চিনি, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, ছোলা, আলু এবং খেজুর।

[৩] বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দেশীয় উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি’র সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের নেতৃত্বে টিম কমার্সের উদ্যোগ, প্রচেস্টা এবং কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে বর্তমান কোভিড-১৯ সময়কালীন লকডাউন পরিস্থিতি এবং বিগত দুইটি রমজানে বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পাশাপাশি এ সকল পণ্যের বাজারে মোটামুটি স্থিতিশীলতা বিরাজ করেছে।

[৪] বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরিণ বাণিজ্য অনুবিভাগের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল কর্তৃক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা যায়, বিগত এক বছরে বিশেষ করে রমজান মাসে ভোজ্যতেল ব্যতীত অন্যান্য সকল পণ্যের বাজারদর মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

[৫] শুধুমাত্র, ভোজ্যতেলের বাজারদর এ সময় বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। জুন, ২০২০ এর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেহেতু, ভোজ্যতেল একটি আমদানি নির্ভর পণ্য, সেহেতু ভোজ্যতেলের বাজার দর মূলত নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজার দরের উঠানামার উপর। ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার ৯৫ ভাগেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তাই সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে যে পরিমানে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, স্থানীয় বাজারে সেই পরিমানে মূল্য বৃদ্ধি পায়নি।

[৬] বিগত এক বছরের আন্তর্জাতিক বাজার দর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক বছর পূর্বে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য যেখানে কেজি প্রতি ৫২.১১ টাকা ছিল, বর্তমানে তার মূল্য ১৩৫.৮৪ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৬০ শতাংশ। একই সময়ে স্থানীয় বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা যায় এক বছর পূর্বের খোলা সয়াবিন তেলের বাজারদর ছিল ৮৮ থেকে ৯৩ টাকা কিন্তু বর্তমানে তা ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে অর্থাৎ এই সময়ে স্থানীয়/ দেশীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৩৫ শতাংশ। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ১৬০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সময়ে দেশীয় বাজারে এই মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৩৫ শতাংশ। পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারদর যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, স্থানীয় বাজারদর সেই তুলনায় অনেক কম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন এর পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে বাজারদর এতটা কম রাখা সম্ভব হয়েছে।

[৭] বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত