প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ত্রিশালের আলোচিত গার্মেন্টেসের ১০ লাখ টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

সুজন কৈরী : [২] ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাগান এলাকার টেক্সটাইল সিটির (কনজ্যুমার গার্মেন্টস লি.) ৫নম্বর ভবনের ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন করেঠে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ময়মনসিংহ কার্যালয়।

[৩] সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মোফাজ্জল হোসেন ওরফে জুয়েল মিয়া (৩৭), হানিফ (২৯) এবং সেলিম হোসেন (৩৩)।

[৪] পিবিআই জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে টেক্সটাইল সিটি থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গার্মেন্টেসের সিকিউরিটি ইনচার্জ বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। থানা পুলিশের তদন্ত চলাকালে ৭ মাস পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে মামলার তদন্তভার পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার উপর অর্পণ করা হয়।

[৫] এরপর পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিপিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সার্বিক সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পংকজ কুমার আচার্য মামলার তদন্ত শুরু করেন। এরই প্রেক্ষিতে রোববার বিভিন্ন সময় ময়মনসিংহের বিভান্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পেরেছে, ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের। জুয়েল ওই গার্মেন্টেসে সহকরী সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে সেখান থেকে ভালুকায় অবস্থিত কনজ্যুমার নিটিং গার্মেন্টেসে বদলি করা হয়। এতে তার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কারণ তিনি ও তার স্ত্রী একই সঙ্গে ত্রিশালে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন এবং কর্মস্থলের কাছেই বাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি স্থানীয় সেলিম, হানিফ, আজিজের সঙ্গে মিলিত হয়ে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে চুরির পরিকল্পনা করেন।

[৭] সেলিম টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন। হানিফ ও আজিজ ওই টেক্সটাইলের কাছে বাগান এলাকায় থাকতেন। হানিফ বালুর ট্রাকের হেলপার আর আজিজ ডিশের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী ঘটনার দিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হানিফ ও জুয়েল কালো বোরকা পড়ে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসের দক্ষিণ পাশের প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢুকেন। হানিফের কাছে ২৫ ইঞ্চি লম্বা শাবল ছিল।

[৮] এদিকে সিকিউরিটি সেলিম ওই দিন ঘটনার আগেই ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষে ঢোকার ফায়ার এক্সিট দরজার চাবি এনে জুয়েলকে দেয়। টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টেসের দক্ষিণ পাশে প্রাচীরের বাইরে সেলিম ও আজিজ পাহারা দিতে থাকেন। হানিফ ও জুয়েল কৌশলে টেক্সটাইল সিটির ৫নম্বর বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় কান্ট্রি ডিরেক্টরের অফিস কক্ষের কাছে পৌঁছে আগেই সংগৃহিত চাবি দিয়ে ফায়ার এক্সিট দরজার তালা খুলে ভিতরে ঢুকে। পরে হানিফের কাছে থাকা শাবল দিয়ে লকার ভেঙ্গে ভিতরে থাকা বেতন-ভাতার টাকার বাক্সটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তারা চারজন বাক্সে থাকা প্রায় দশ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

[৯] ময়মনসিংহ জেলার পিবিআইর এসপি গৌতম কুমার বিশ^াস বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর গার্মেন্টেসে চুরির ঘটনা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ময়মনসিংহ জেলাকে দেওয়া হয়। এরপর ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

[১০] কার্যক্রমের অংশ হিসাবে জব্দকৃত সিসিটিভি ফুটেজ বারবার পরীক্ষা করা হয়। ফুটেজ পরীক্ষা করে বোরকা পড়া এক জন পুরুষের মেয়েলী ভঙ্গিতে হাটার দৃশ্য দেখা য্ায়। ওই বিষয়ে টেক্সটাইল সিটি গার্মেন্টসের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

[১১] জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে সন্ধিগ্ধ আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা প্রত্যেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত