প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রামক হলেও একলাখে মাত্র ১ থেকে ২ জন সংক্রমিত হয়ে থাকে: বিএসএমএমইউর উপচার্য

শাহীন খন্দকার: [২] সোমবার ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস এর সম্ভাব্য সংক্রমণ, প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনাসহ এই রোগের চিকিৎসার সামগ্রিক বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের। উপাচার্য আজ নিজ কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে ‘বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস এর সম্ভাব্য সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও ম্যানেজমেন্ট’ সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি এই নির্দেশ দেন।

[৩] সভায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ডায়াগনোসিস, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বিষয়ক গাইডলাইন তৈরি করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা, ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত করা, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

[৪] অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিশেষ ধরণের অনুবীক্ষণিক ছত্রাকের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এই ছত্রাক সর্বব্যাপী- মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকলেও সংক্রমণ ক্ষমতা এতই কম যে ১ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ১-২ জনের এই সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেই কেবল এই সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে- যেটা ১ লাখে ২০ থেকে ৩০ জন হতে পারে।

[৫] অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিশেষত কিটো অ্যাসিডোসিস আক্রান্তরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তাছাড়া ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অত্যাধিক স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে। চামড়ার গভীর ক্ষত ও পোড়া ঘায়েও এই রোগ হতে দেখা যায়।

[৬] তিনি বলেন, ভারতের কোনো কোনো স্থানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আশংকাজনক হারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো এই রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়নি। দেশে হোয়াইট ফাঙ্গাসে কোনো রোগীর আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।

[৭] মিউকরমাইকোসিস আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা না করতে পারলে ৫০% থেকে ৮০% রোগী মৃত্যুবরণ করে থাকে। আর অভ্যন্তরীণ সংক্রমণে মৃত্যুর হার শতভাগের কাছাকাছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক পরিকল্পনায় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আমরা কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারীকে যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রণ করতে সফল হয়েছি।

[৮] সতর্কতা অবলম্বন করলে এই রোগ থেকে সবাই নিরাপদ থাকা সম্ভব। সংক্রমণ ঘটলেও যথাযথ ঔষধ সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে আরোগ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। সুতরাং আতংক নয়, সাবধানতা দরকার।

[৯] অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানেসথেসিয়া, এ্যানালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, অটোল্যারিংগোলজি হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জাফর খালেদ, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উলাহ মুন্সী, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ প্রমুখ । সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বাধিক পঠিত