প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুনিয়ার কাজ যখন পরকালের পাথেয়

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান: মাবনজীবনের পূর্ণতা পাবে আখিরাতে। পরকালের সুফল প্রত্যাশী সকল মানুষকে অবশ্যই উত্তম আমল ও আখলাকের মাধ্যমে পরকালের সামান সংগ্রহে জিন্দিগি ব্যয় করতে হবে। দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে সে অন্ধ হয়ে থাকবে না। দুনিয়ার জীবনকে জিন্দা রেখে আখিরাতের কল্যাণ তালাশ করাই তার কাজ। দুনিয়ার প্রতি মোহ থাকবে ঠিকই, কিন্তু তা হবে আখিরাত অর্জনে সহায়ক। দুনিয়ার জন্য নয়।

একজন মানুষ দুনিয়ায় এমনভাবে জিন্দিগি যাপন করবে, যাতে তার প্রতিটি কাজে হালাল হারামের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। যে যখন কোনো কাজ করবে আল্লাহর কথা স্মরণ রাখবে। আর কোনো কাজ যদি শরিয়ি পদ্ধতি অনুযায়ী সঠিক ও যথার্থ নিয়মে হয় তাহলে তা করবে, অন্যথায় আল্লাহর ভয়ে ঐ কাজ থেকে বিরত থাকবে। কারণ এই দুনিয়া একজন মুমিন ও মুসলমানের জন্য শস্যক্ষেত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানে সে ঐ পর্যন্ত সময় অতিবাহিত করতে পারে, যে পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়ার হায়াত দান করেছেন। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের ভুল ব্যবহার নিজেকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়। যার কোনো প্রতিকার করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আর সে সুযোগও সে পাবে না। কারণ তাকে ইতো:পূর্বে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

সংসার ও সমাজধর্ম ত্যাগ করে অনেকে আল্লাহকে পেতে চায়। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। এই ইবাতদ কেবল নামাজ, রোজা ও এ জাতীয় কিছু কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের একটি সমন্বিত প্রয়াসই হলো ইবাদত। মানুষ যদি ইবাদত বন্দেগির নামে সমাজ বিরাগী হয়। আর সমাজের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বেইমান ও মুনাফিকদের হাতে। সমাজে নাফরমানি ও খোদাদ্রোহীমূলক কাজ চলতে থাকে। তাহলে আল্লাহ যে উদ্দেশে মানুষ সৃষ্টি করলেন তার সেই আনুগত্য ব্যাহত হলো। সুতরাং এমন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে যেখানে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বিরাজ থাকবে।

দুনিয়ার মহব্বত ও ধনসম্পদের মালিক হওয়া দোষের কিছু নেই। কিন্তু নিয়তের জায়গাটি মজবুত হওয়া প্রয়োজন। আমি দুনিয়াকে ভালোবাসি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাই বলে। অর্জিত ধনসম্পদ যেন দীনের পথে ব্যয় হয়। গরিব ও অভাবী মানুষের হক যেন অপূরণীয় না থাকে। তাহলেই আল্লাহ বান্দার প্রতি সস্তুষ্ট থাকবেন। আর সেই কাজে বরকত দান করবেন। এভাবেই দুনিয়ার প্রতিটি মঞ্জিলে যেন আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়। সবসময় মানুষের চিন্তা থাকা উচিত কীভাবে আমি আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলব। তাহলে মানুষকে পরকালের জন্য আলাদা আমলের কথা ভাবতে হবে না। দুনিয়ার কাজগুলোই তার জন্য পরকালের আমল হয়ে যাবে।

আল্লাহ যদি আমাকে আরেকটু নেক হায়াত দান করেন তাহলে আমি সেই হায়াতকে উত্তম আমল দিয়ে ভরে দেব। অন্যান্য জীব-জানোয়ারের মতো আমি গাফেল হয়ে সময়টাকে অতিবাহিত করব না। কারণ আমাকে তো অন্যসব প্রাণীর মতো সামান্য হিসাব নিয়েই ছেড়ে দেয়া হবে না। তাহলে কেন আমি খেল-তামাশা, গর্ব-অহংকার করে সময় কাটাব। এগুলো তো আমাকে মুক্তি দিতে পারবে না। বরং আমাকে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে।

অথচ আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার কোনো প্রকার নেয়ামত ভোগ করা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেননি। তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। আর সেই উর্বর জমিন থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের এত রিজিক দিয়েছেন আমরা বেহিসেবে তা ভোগ করেছি। তিনি তা কখনো জানতে চাননি। কারণ তিনি এগুলো দিয়েছেন মানুষের জন্য। আর মানুষকে অনুগত করেছেন তার জন্য। মানুষ সবকিছুই ভোগ করবে। তবে ইবাদত করবে একমাত্র আল্লাহর। এ কারণে দেখা-অদেখা, জানা-অজানা কোনো প্রকার নেয়ামত থেকেই তাকে মাহরুম করা হয়নি।
দুনিয়া এমন একটি বিষয় যেটিকে গুরুত্ব দিয়ে আখিরাতকে হারানো যাবে না। দুনিয়া হবে আমল অর্জনের জায়গা। আর আখিরাত হবে আল্লাহর ওয়াদাকৃত পুরস্কার ভোগের জায়গা। এই আসল কথাটি যাদের অন্তরে গেঁথে যাবে তারাই কামিয়াবি।

এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসল সে তার পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। আর যে ব্যক্তি পরকালকে ভালোবাসল সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। সুতরাং তোমরা ক্ষণস্থায়ী বস্তুর উপর চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দাও’ (মিশকাত)।
অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,‘দুনিয়া পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে। আর আখিরাত সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। মানুষের অন্তরে এ দুটির প্রতি প্রবল আসক্তি রয়েছে। সুতরাং তোমরা পরকালের প্রতি আসক্ত হও। দুনিয়ায় প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ো না। কারণ দুনিয়া আমলের সময়। কিন্তু এখানে কোনো হিসাব নেই। আর পরকাল হবে হিসাবের। সেখানে আমল করার কোনো সুযোগ নেই’ (বুখারি)।
সুতরাং মৃত্যু আসার আগে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করে শয়তানের পদাংক অনুসরণ করা যাবে না। তা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন। কারণ তার কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করা।

লেখক : সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত