প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবু ওবায়দা খাঁন: ইসরায়েল-আরবঃ দ্বিতীয় পর্ব

আবু ওবায়দা খাঁন: বাংলাদেশ তার ই-পাসপোর্ট সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। হয়তো বাংলাদেশীরা জেরুজালেমে আল-আকসার পবিত্র মসজিদেও একদিন যেতে পারবে। পরিবর্তন আসছে – ধীরে, নিরবে। পড়ালেখা করা মানুষ যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করবে আর সেইমতে চলবে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেশীরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই তেমনটা দেখা যায়না। বরং বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে অন্ধের মত চলে তারা। অধিকাংশ মুসলমমানই মনে করে ইসরায়েলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া উচিৎ। ঐদিকে ইসরাইলও একক রাষ্ট্রে বিশ্বাসী, ওরা আরবদের বিশ্বাস করে না। ইহুদীরা জানে প্যালেস্টাইন কে যদি ভূখণ্ড নির্ধারণ করে রাষ্ট্র করে দেয়া হয়, তার ঠিক পরের মুহূর্ত থেকেই প্যালেস্টাইন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, লেবানন মিলে ইসরায়েলের অন্য অঞ্চলের উপর নজর দিবে। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে শেষ জমিটুকু না পাওয়া পর্যন্ত। আরব – ইসরাইল কেউই কাউকে একচুলও বিশ্বাস করেনা।

প্যালেস্টাইনকে সবাই এখন তুলসি পাতা মনে করে, কথা হচ্ছে শুরুর দিকে তারা এত জমি ইহুদিদের কাছে কেন বিক্রি করেছিল? কেন ওদেরকে একত্রিত হওয়ার স্বপ্ন দেখাল! ইহুদীরা ঐ অঞ্চলে অনেক আগে থেকেই ছিল এই কথাটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি ওদের কোন রাষ্ট্র ছিলনা এটাও সত্য। ধীরে-ধীরে ওরা যখন সংখ্যায় বাড়তে লাগলো তখন স্বাভাবিক ভাবেই ওদের আলাদা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে। এটাই সংঘবব্ধ মানুষের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যে কোন জাতি এমনটাই করবে। কথা হচ্ছে ‘তুমি প্যালেস্টাইন’ লোভে পড়ে এমন সুযোগ দিতে গেলে কেন?

পৃথিবীতে OIC ভুক্ত মুসলিম দেশের সংখ্যা ৫৭ টি, অন্যদিকে ইহুদি রাষ্ট্র মাত্র একটি, যার জনসংখ্যা হচ্ছে ৯০ লাখের মত। এর মধ্যে ইহুদীদের সংখ্যা হবে ৭০ লাখ। অন্যদিকে OIC তে মুসলমানদের সংখ্যা হচ্ছে ১৮০ কোটি। এই ৫৭টি রাষ্ট্র মিলে যদি প্যালেস্টাইনদের নিজেদের দেশে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ইসরায়েলে কার্পেট বোমাবর্ষণ করে তাহলেইতো খেলা খতম হয়ে যায়, কিন্তু তারা তা করবেনা।

আবার এই সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রের ভণ্ডামিটা দেখেবেন অসামান্য। তারা সৌদি আরবের ইয়েমেন আক্রমণের ব্যাপারে, বা পাকিস্তানের বেলুচদের উপর কিংবা খ্রিস্টানদের উপর জঘন্য আক্রমণের ব্যাপারে নিরব থাকবে। সৌদিআরব যে বাংলাদেশে টাকা পয়সা দিয়ে ওহাবিজম আর সালাফিজম দিয়ে উগ্র মৌলবাদের চাষ করছে সে ব্যাপারে একদম চুপ। টুশব্দ টুকু পর্যন্ত করবে না।

সৌদিআরব তাদের লেবার মার্কেট বাংলাদেশের জন্য খোলার বিনিময়ে এখানে রেডিকেল ইসলামের রপ্তানি করে। ১৯৭০ এর পর হতে সৌদিরা এদেশে হাজারের উপর মসজিদ মাদ্রাসা করেছে। আজকের হেফাজতে ইসলাম আর অন্যান্য ইসলামিক উগ্রবাদী সংঘটনের কব্জায় ১৪ হাজারের মত মসজিদ আর ১২ লাখেরও বেশি মাদ্রাসার ছাত্র বলতে গেলে সরকারি নিয়ন্ত্রনের বাইরেই অবস্থান করে। এসব নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের কথা বলতে দেখবেন না, তাদের চোখ সর্বদা ইসরায়েলের দিকে, কান যেমন চিলের কাছেই থাকে। কেন জানি মনে হয় মুস্ল্মানেরা আসলে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র নিয়ে কেয়ার করে না, তারা আসলে মনে প্রানে চায় ইহুদী রাষ্ট্রের পতন, ব্যাস এইটুকুই।

রাশিয়ার অর্থনীতি সমরাস্ত্রের কারখানা আর তাদের তেলের উপর নির্ভরশীল। সে মধ্যপ্রাচ্য কন্ট্রোল করতে পারলে নিজেদের তেল বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু অ্যামেরিকা সেটা হতে দিবে না বলেই ইসরাইলকে দিয়ে শক্তিমত্তা বজায় রাখে মধ্যপ্রাচ্যে। ইসরায়েল প্রায়ই বলে তার সিমানা এখনো নির্ধারণ হয়নি। তার মানে হোল ভবিষ্যতে সে আশপাশের দেশের জায়গাও দখল করে নিয়ে নিজের সিমানা বড় করে নিতে পারে, আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকবে, কারন ইসরায়েল শক্তিতে বড় হলে তাকে দিয়ে রাসিয়াকে শিক্ষা দিতে সহজ হবে। একারণে ঐ অঞ্চলে কোনদিনই শান্তি আসতে দেয়া হবে না। ISIS এর মত সংঘটন হতেই থাকবে।

মিশরের আনোয়ার সাদাতের সাথে ইসরায়েলের শান্তি চুক্তির পর তাকে মেরে ফেলা হয়, ফিলিস্তিনে PLO এর ইয়াসির আরাফাত শান্তি চুক্তিতে অনেক খানি এগিয়ে গিয়েছিল পরে তাকেও বিষ প্রোয়গ করে মেরে ফেলা হয়। ইসরায়েলের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী আইজাক রবিনও দুদেশের ভূখণ্ড নির্ধারণ করেছিল পরে তাকেও মেরে ফেলা। এই তিনজনকেই শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়েছিল। এদের মৃত্যুর সাথে অশান্তি টিকিয়ে রাখার কোন সূত্রকি খুঁজে পান? লড়াই পর্দার সামনে একরকম আর পর্দার পিছনে অন্যরকম। কাজেই মুসলমান ভাইলোগ বিভ্রান্ত হবেননা।

১৯৪৭ এর আগে প্যালেস্টাইনদের জমির পরিমাণ যদি ১০০% থেকে থাকে, আজকের দিনে তাদের কাছে আছে মাত্র ১২% এর মত। এসবের পিছনে আছে ইংল্যান্ডের উপনিবেশিক শাসনের কুট চাল, যা লন্ডনে রানির প্রাসাদে বসে হয়েছিল। অখণ্ড ভারত বর্ষ মায়ানমার থেকে শুরু করে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই নাটের গুরুদের চক্রান্ত নিয়ে কেউ কথা বলেনা।

১৮৭৬ এ আফগানিস্তানকে ভারতবর্ষ থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। ১৯০৪ এ নেপালকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ১৯০৬ এ ভুটান, ১৯০৭-এ তিব্বত, ১৯৩৫ এ শ্রীলঙ্কা, ১৯৩৭ এর দিকে মিয়ানমারকে আলাদা করে দেয়া হয়েছিল। ১৯৪৭ এ পাকিস্তান তৈরি হয়ে গেল, পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হোল ১৯৭১ এ। তাহলে এসবের পিছনে কাদের হাত ছিল? এখন কেন ইসরায়েল ইস্যুতে ইংল্যান্ডকে বয়কট করার কথা কেউ বলছেনা !?

মুসলমানেরা বলে প্যালেস্টাইনদের উপর ইনসাফ করা হচ্ছে না, তাইলে আফগানিস্তানে যখন এত বড় মহাত্মা বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙ্গা হোল তখন ইনসাফ কোথায় ছিল? টুইনটাওয়ারে যখন হামলা হোল তখন ওখানে যারা কাজ করছিল তাদের উপর কি ইনসাফ করা হয়েছিল? কি দোষ করেছিল তারা যে এমনভাবে মরতে হোল? মানুষ বলে ইসরায়েলের হামলায় মাসুম বাচ্চা মারা যাচ্ছে, ঠিক আছে বুঝলাম, হামাসের রকেট হাম্লায় তাহলেকি ইসরায়েলের শিশুরা ফুলের বর্ষণ দেখছে? রকেট ছোড়ার পর হামাস নিজেও জানেনা এটা আসলে কোথায় পড়বে। ইসরায়েলের আয়রন ডোম না থাকলে বোঝা যেত ক্ষয়ক্ষতি কয় প্রকার ও কি-কি? আজারবাইজান আর আরমেনিয়ায়ও কি ইনসাফ হয়েছিল? এসব বলে কোন লাভ নাই।
কানাড প্রবাসী লেখকের ফেইসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহিত।

 

সর্বাধিক পঠিত