প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতফেরত বাংলাদেশী: কোয়ারেন্টিন দুর্বলতায় করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

বণিক বার্তা: নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে চলাচলে বিধিনিষেধের সময়সীমা বেড়েছে আরো সাতদিন। প্রায় দুই মাস ধরে চলমান এ বিধিনিষেধের মধ্যে সংক্রমণ পরিস্থিতির হার কিছুটা নিম্নমুখী। তবে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের খোঁজ মেলায় পরিস্থিতিকে এখনই ভালো বলতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত প্রত্যাগতদের কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে নিশ্চিত করা না গেলে করোনা সংক্রমণ আবারো বাড়তে পারে। এমনকি করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কাও করছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসির লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বুলেটিনে বলেন, এখন পর্যন্ত নয়জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরন শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো অনেকের শরীরে পাওয়া নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং চলছে। এর ফলাফল হাতে এলে সংখ্যাটি বেড়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমিতদের প্রায় অর্ধেকই ভারতের। সংক্রমণের ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশেও যদি এ ধরন ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে করোনা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে যাবে। সেজন্য সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির কথা বলছেন তারা।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, যদি বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ধরনটি বিস্তার লাভ করে, তাহলে আবারো সংক্রমণ চূড়ায় উঠবে। বিস্তার ঠেকাতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় নজরদারি বাড়াতে হবে। সীমান্ত বন্ধ করলেও কোনো না কোনো ব্যবস্থাপনায় মানুষ আসা-যাওয়া করছে। এতে ঝুঁকি থেকে যায়। এখন সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণের হার বেশি। সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সীমান্তের জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এসব জেলায় আক্রান্ত রোগীর নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হবে। ভারতের ধরন শনাক্ত হলে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশি করে সিকোয়েন্সিং করা হলে বেশি ধরা পড়বে, এতে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। এভাবেই ভারতের ধরনের সংক্রমণ বিস্তার ঠেকানো যাবে বলে মনে করেন এ ভাইরোলজিস্ট।

চলমান কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশীদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং তাদের চিকিৎসার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি সভা সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্তে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারতের ট্রাক ড্রাইভাররা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করার পর প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে যেন ট্রাক রাখেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে পণ্য নামানোর জন্য বাংলাদেশীরা নিয়োজিত থাকবেন। ভারত থেকে আসা সবাইকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ পাওয়া সাপেক্ষে তাদের ছাড়পত্র দেয়া হবে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় জেলা প্রশাসক তদারক করবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সীমান্ত হাটে ভারতের লোকজনের আসা বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। অনুমোদনহীন কেউ যাতে ভারত থেকে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ট্রাক ড্রাইভাররা যাতে লোকালয়ে এসে জনসাধারণের সঙ্গে মিশতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা, কন্ট্র্যাক্ট ট্রেসিং বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়।

এদিকে দেশের স্থলবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে সরকারি নির্দেশ থাকার পরও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ভারত ঘুরে যেসব বাংলাদেশী ট্রাক ড্রাইভার ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করছেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে  বন্দরে কর্মরত কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ আশপাশে বসবাসরত জনসাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যেসব ট্রাক ড্রাইভার বা হেলপার ভারতে গিয়ে আবার ভোমরায় ফিরছেন, তাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সাতক্ষীরায় আসা ৩৩৭ বাংলাদেশী নাগরিকের নমুনা পরীক্ষা শেষে ১৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৪২ জনের পরীক্ষায় ১১ জন ও সর্বশেষ গত শুক্রবার বাকিদের শারীরিক পরীক্ষা শেষে ছয়জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, এসব রোগীর নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে তাদের শরীরে ভারতীয় ধরন আছে কিনা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত