প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেরদৌস খন্দকার: একজন নাসিরের গল্প এবং ভবিষ্যৎ

ফেরদৌস খন্দকার: নিউইয়র্কের একটা ঘটনা দিয়েই শুরু করি।  সম্প্রতি প্রো প্যালেস্টাইন র‌্যালি করতে গিয়ে ম্যানহাটনে পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া কিছু ইহুদিদের তারা ধাওয়া করে এবং একজনকে বেধড়ক মারধর করে। ঠিক যেমন টা আমরা আশির দশকে দেখেছি আন্দোলনের সময়। আজকের ঘটনা শুরু করি নাসিরের গল্প দিয়ে। কোন যুগে আছি নিজেকে প্রশ্ন। প্রতিদিন আমেরিকাতে ডাক্তারি করতে বিভিন্ন রকমের আজব ঘটনার সম্মুখীন হই। আজ বলবো নাসিরের গল্প। ২৫ বছরের অভিবাসী। বর্ডার ক্রস করে আমেরিকা এসেছেন বহু কষ্ট করে। এসে তার স্বপ্নের মতো করে সে মাদ্রাসায় ভর্তি হলো। জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় থাকো? বললো, বোর্ডিং এ থাকি। একটু উৎসুক মন আমার জানতে চাইলো আমেরিকাতে আবার বোর্ডিং আছে নাকি?

বললো হ্যাঁ। গাদাগাদি করে ১২টি ছাত্র বোর্ডিং নামের এক বেসমেন্টে (মাটির নিচে) থাকে। জিজ্ঞাসা করলাম খরচ কে জোগায়? বললো, আফগান প্রবাসী একজন ধর্মভীরু ধনী ব্যক্তি। সে এ-ই নাসিরের স্পনসর বা পৃষ্ঠপোষক। সমস্ত খরচ এবং দায়িত্ব তার। কিছুটা অবাক হলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কোন লাইনে পড়ছো? হেফজো, আলিয়া নাকি কওমি? সে কোনোটারই উত্তর দিতে পারলো না। বললো সবগুলো মিশিয়ে কিছু একটা। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইংরেজি বাক্য বলতে পারো? সে বললো, পারে না। আরবি বলতে পারো? বললো, কিছুটা। জিজ্ঞাসা করলাম, এ-ই লাইনে পাস করার পর তুমি কি কোনো সার্টিফিকেট পাবা আমেরিকাতে? বললো না। চোখেমুখে উত্তর : আমেরিকার সার্টিফিকেট দিয়ে কি হবে?

আল্লাহর সার্টিফিকেটই যথেষ্ট। এরপর জিজ্ঞাসা করলাম, এ লাইন থেকে পাস করে তোমার পেশা কি হবে? সে বলতে পারলো না কোন পেশার নাম। তবে মনে হলো ধর্মপ্রচারই  হয়তো তার উদ্দেশ্য এ-ই মাটিতে। তখন জিজ্ঞাসা করলাম ধরো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু ইংরেজি বলবে, তুমি কীভাবে তাদের কাছে ধর্মকে প্রচার করবে? সে উত্তর দিলো না এবং সেটা নিয়ে তার কোনো ভাবনা আছে তা মনে হলো না অবাক হলাম। আমেরিকায় থাকে। কতো সুযোগ ছিলো। ধর্মকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার। মানুষমুখী করার। সেটি না করে ধর্মকে আমরা পিছনে ঠেলছি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ-ই সুযোগ সুবিধা গুলো কাজে লাগিয়ে আমরা চাইলেই অনেক বড় বড় আলেম, গ্রাজুয়েট বানাতে পারি। যারা মানবজাতিকে ধর্মের সহায়তা নিয়ে উন্নতি দিতে পারে। সেটি না করে সরাসরি সামনে যাওয়ার লোভে লোভী কিছু ধর্মান্ধের পাল্লায় পড়ে আমাদের প্রজন্মকে আমরা অনিশ্চিত উদ্দেশ্যে ঠেলে দিচ্ছি। দিন শেষে মনকে প্রশ্ন করলাম অই আফগান পৃষ্ঠপোষকের সন্তানেরা কি লেখাপড়া করছে? ছেলেটির জন্য খারাপ লাগলো কী করবে ভবিষ্যতে কে জানে। দেখুন আমরা বলি যুদ্ধ করবো, প্রতিরোধ করবো ইহুদিদের। তারা আইন্সটাইনের জাতি। তাদের আমরা মাথা দিয়ে প্রতিরোধ না করে শরীর দিয়ে প্রতিরোধ করতে চাই। আর যোদ্ধা হিসেবে ব্যবহার করতে চাই ইংরেজিতে একটি বাক্য ও না বলতে পারা এসব কোমলমতি এসব কিশোরদের দিয়ে। আর সমাজের পরিবর্তনও আনতে চাই এইরকম মানুষগুলোর ওপর  ভর করে। বিধাতাই বলতে পারবেন গন্তব্য কোথায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত