প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈদযাত্রা ও বাড়ি ফেরায় বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, শীর্ষে মোটরসাইকেল, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ৮ সুপারিশ

শরীফ শাওন: [২] ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৭ মে থেকে কর্মস্থলের ফেরা ২১ মে পর্যন্ত ১৫ দিনের ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৩২৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৬২২ জন। একই সময়ে রেলপথে ২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ জন, নৌ-পথে ৩টি দুর্ঘটনায় ৬জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছেন। সড়ক রেল ও নৌ-পথে যৌথভাবে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ৭২২ জন আহত হয়েছেন।

[৩] রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ১৪৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত ও ১৯৯ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৫.২৮ শতাংশ, নিহতের ৪৩.০৩ শতাংশ এবং আহতের ৩১.৯৯ শতাংশ প্রায়।

[৪] প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের মধ্যে ৩৬.৯৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.৩৭ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ১৩.২৪ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৭.৫৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ৭.০৭ শতাংশ অটোরিক্সা, ৬.৮৪ শতাংশ ব্যাটারী রিক্সা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ও ৫.৯৩ শতাংশ বাস।

[৫] সংগঠিত দুর্ঘটনার ২৪.২১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৭.১৬ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৭.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ১০.০৬ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে ও ০.৬২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁছিয়ে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

[৬] দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২.৩৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪০.৮৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.৩২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.১৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়।

[৮] সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১৫১ জন চালক, পরিবহন শ্রমিক ৮০, পথচারী ৭৯, নারী ৬৩, শিশু ৪৫, শিক্ষার্থী ১৫, সাংবাদিক ১২, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ১০, শিক্ষক ৯, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ৮, চিকিৎসক ৪, আইনজীবী ২ এবং ১ জন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে।

[৯] এর মধ্যে নিহত হয়েছে ১ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন র‌্যাব সদস্য , ১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ২ জন বিজিবি, ৩৫ জন নারী, ৩ জন চিকিৎসক, ২২ জন শিশু , ১৩ জন শিক্ষার্থী, ৭ জন শিক্ষক, ৯৬ জন চালক, ৩১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১ জন প্রকৌশলী, ৬৯ জন পথচারী, ২ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

[১০] দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বলা হয়, বেপরোয়া গতি, রোড মার্কিং ও সড়ক বাতি না থাকা, টার্নিং চিহ্ন না থাকা, মহাসড়ক নির্মাণ-যানবাহন ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসকল বিষয় সমাধানে সুপারিশ করা হয়।

[১১] মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, লকডাউনে দেশে গণপরিবহন বন্ধ ও মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের যাতায়াতে এত বেশি সংখ্যক দুর্ঘটনা ও প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি সড়ক দুর্ঘটনাকে মহামারী করোনাভাইরাসের মত গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।

[১২] গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক বলেন, গাড়ির ফিটনেস ও অন্যান্য সেবাসমূহ নিতে গিয়ে বিআরটিএ-তে অস্বাভাবিক হয়রানি ও ঘুষবাণিজ্যের শিকার হচ্ছে গাড়ির মালিকগণ। ফলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাড়ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা।

[১৩] যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর পাল্লার বাস বন্ধ করে যে যেখানে আছে সেখানে ঈদ করবে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবায়নে নানা জটিলতায় কিছু মানুষের বাড়ি যাওয়া অত্যন্ত ভোগান্তির পোহাতে হয়েছে। যারা রাস্তায় নেমেছিল তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌছাতে সরকারের দায়িত্ব ছিল।

[১৪] সমিতির দাবি, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও গণপরিহন বন্ধ থাকার সুযোগে সড়কে ব্যক্তিগতযান বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা-ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভাডভ্যানে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে এবারের ঈদে সড়কে দুঘটনা ও প্রাণহাণি দুটোই বেড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত