প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

মামুন খান ও মহসীন কবির: [২] সরকারি নথি সরানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাাগরে থাকা প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

[৩] রোববার (২৩ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামকে অন্তঃবর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।

[৪] বিচারক আদেশে উল্লেখ্য করেন, ‘গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। যার যার আহ্বান থেকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করবেন এমন প্রত্যাশা করছি।’

[৫] এর আগে গত ১৮ মে রোজিনা ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে জামিন আবেদনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য ২০মে দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন রোজিনা ইসলামের জামিনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত আদেশের দিন রোববার ধার্য করেন।

[৬] আদেশ কি হয় তা শুনতে সকাল সকাল আদালতে হাজির হন প্রথম আলোর উপসম্পাদক, লেখক আনিসুল হক, তার পরিবারের লোকজন, সহকর্মী। জামিন আদেশ হওয়ার পর আনিসুল হক সাংবাদিকদের ধন্যবাদ
জানান।

[৭] আনিসুল হক বলেন, ‘সংবাদপত্রে স্বাধীনতা সুশাসন নিশ্চিত করে, দুর্নীতি কমায়। জনগণের যে মৌলিক অধিকার আছে তথ্য জানার সেটাকে নিশ্চিত করাও আমাদের কর্তব্য, সাংবিধানিক অধিকার। প্রথম আলো আইনের শাসন বিশ্বাস করে। আইনের প্রতিকার পাওয়াতেই আমাদের আস্থা আছে। সেই হিসেবে সব সময় আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার ওপর আস্থা রাখি। এক ধাপ হলো, রোজিনার জামিন হলো। পরবর্তীতে প্রথম আলো রোজিনার
কাছ থেকে এবিষয়ে আইনানুগ যে প্রতিকার পাওয়ার সেটার জন্য শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করবো। একজন নাগরিক, লেখক, সাংবাদিক হিসেবে দাবি, মামলাটি নি:শর্তভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হোক।’

[৮] তিনি বলেন, ‘মামলায় আমরা যেটা শুনেছি, বিশেষ করে টকশো গুলোতে ব্যারিস্টাররা, আইনজীবীরা বলেছেন, মামলাটিতে কোনো ম্যারিট নাই। তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে অযথা শুধু হয়রানী করার জন্য মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। সারাদেশের সাংবাদিকদের মুখোমুখি করাটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ব্যাপারটাকে অনেক জটিল না করে মামলার ফয়সালা করে ফেলার পরামর্শ দেন আনিসুল হক।’

[৯] উল্লেখ্য, ১৭ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। স্বাস্থ্য সচিবের পিএস সাইফুল ইসলামের রুমে ফাইল থেকে নথি সরানোর অভিযোগে তাকে ওই রুমে আটকে রাখা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে
তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

[১০] রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তারা দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। পরে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাংবাদিকরা সচিবালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও আটকে রাখার প্রতিবাদ করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের রুম থেকে থেকে বের করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর মধ্য রাতে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত