প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাহলে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন কেন?

জায়েদুল আহসান পিন্টু, ফেসবুক থেকে: প্রশ্ন: সাংবাদিকের নথি চুরি আর বাই প্রফেশন চোরের চুরি কি একই অপরাধ?
উত্তর: না
প্রশ্ন: কেন না?
উত্তর: চোর চুরি করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য। সাংবাদিক নথি চুরি করে দেশ ও জনগণকে অন্যের চুরি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য।
প্রশ্ন: বাই প্রফেশন চোরের মত কি সাংবাদিক কোনো নথি বা দলিল চুরি করতে পারে?
উত্তর: পারে না।চোর বাড়ির মালিককে না জানিয়ে চুরি করে। আর সাংবাদিককে সরকারি দপ্তরের কেউ না কেউ দলিলের ফটোকপি দেন। বা ছবি তুলে নিতে বলেন। বা হাতে লিখে নিতে বলেন। বা কপিটি আপাতত নিয়ে গিয়ে পরে ফেরত দিতে বলেন। সাংবাদিকের পক্ষে জানা সম্ভব না কোন দলিল কোথায় থাকে, আর কোন দলিলের কোন পৃষ্ঠায় কী লেখা আছে।
প্রশ্ন: তাহলে সাংবাদিক চুরিটা একা করে না, সরকারি দপ্তরের কেউ না কেউ সহযোগিতা করেন?
উত্তর: অবশ্যই। নয়তো নথি পাবেন কী করে?
প্রশ্ন:বাড়ি থেকে জমির দলিল চুরি করলে দণ্ডবিধিতে মামলা হয়, সরকারি দপ্তর থেকে কোন দলিল চুরি হলে মামলা হবে না কেন?
উত্তর: মামলা হবে। এক্ষেত্রে আসামি বাই প্রফেশন চোর নাকি সাংবাদিক? তার মোটিভ কী ছিল সেটা দেখে বিচারক রায় দিবেন।
প্রশ্ন: সাংবাদিক যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মত কোনো দলিল চুরি করেন?
উত্তর: কোন কোন বিষয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকের অভিপ্রায় কী সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো তথ্য সাংবাদমাধ্যম নিজেই প্রচার করবে না।
প্রশ্ন: সাংবাদিক যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দলিল ভিন্ন দেশে পাচার করে?
উত্তর: গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে তার সাজা হবে।
প্রশ্ন: সাংবাদিক যদি তার অফিসের মালিক গোষ্ঠির ব্যবসা সংক্রান্ত নথি চুরি করে?
উত্তর: চুরির মামলা হবে। তার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন: সবই তো নথি, সাজা ভিন্ন ভিন্ন হবে কেন?
উত্তর: উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন তাই। কোনটা ব্যক্তি স্বার্থে, কোনটা গোষ্ঠি স্বার্থে বা কোনটা জনস্বার্থে। সাংবাদিক শুধু জনস্বার্থে কাজ করবেন।
প্রশ্ন: তাহলে নথি চুরি জায়েজ?
উত্তর: না।
প্রশ্ন:বিকল্প কী?
উত্তর:সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়বে না এমন সব তথ্য চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকবে।
প্রশ্ন:সরকার এটা কেন করবে?
উত্তর: জনস্বার্থে করবে। এটা নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এ কারণেই সরকার “জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১” প্রণয়ন করেছে। এই আইন অনুযায়ী কোনো তথ্য প্রকাশকারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট, যুক্তিযুক্ত বিবেচনায়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন।
প্রশ্ন: জনস্বার্থ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ‘‘জনস্বার্থ’’ অর্থ সরকার বা সরকারের নির্দেশে জনগণ বা জনগণের কিয়দংশের স্বার্থে বা কল্যাণে গৃহীত কর্ম।
প্রশ্ন: জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য মানে কী?
উত্তর: কোন সংস্থার এইরূপ কোন তথ্য যাতে প্রকাশ পায় যে, কোন কর্মকর্তা-
(ক) সরকারি অর্থের অনিয়মিত ও অননুমোদিত ব্যয়;
(খ) সরকারি সম্পদের অব্যবস্থাপনা;
(গ) সরকারি সম্পদ বা অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয়;
(ঘ) ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা;
(ঙ) ফৌজদারী অপরাধ বা বেআইনি বা অবৈধ কার্য সম্পাদন;
(চ) জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কার্যকলাপ; অথবা
(ছ) দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন, আছেন বা হতে পারেন।
প্রশ্ন: তাহলে সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের তথ্য দিবেন?
উত্তর: না। এই আইনে সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিতে বলা হয়নি। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট; স্পিকার; সুপ্রিম কোর্ট এর রেজিস্ট্রার, দুদক, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবংথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য প্রকাশ করবে।
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি তথ্য দিলে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে না?
উত্তর: মিথ্যা তথ্য দিলে ব্যবস্থা নিতে পারবে। আর সত্যি তথ্য দিলে তাকে পুরস্কৃত করবে।
প্রশ্ন: এই আইনে সাংবাদিকদের কী সুবিধা?
উত্তর: সাংবাদিকদের সরাসরি কোনো সুবিধা নেই। তবে এই আইনের চেতনা সাংবাদিকদের পক্ষে। সরকার যেহেতু সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করলে পুরস্কার দিবে তার মানে সরকার চায় জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশিত হোক।
প্রশ্ন: তাহলে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন কেন?
উত্তর: এগুলো স্ববিরোধিতা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত