প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর: সরকার কি তা হলে গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা আর অনুভব করছে না!

শওগাত আলী সাগর : সরকার কি তা হলে সাংবাদিকদের তথা গণমাধ্যমের কোনো প্রয়োজনীয়তা আর অনুভব করছে না! সরকার আর সাংবাদিকদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হোক- সেটা কি সরকার নিজেও চাচ্ছে? রোজিনার জামিন মঞ্জুর না হওয়ার খবর শোনার পর প্রথম আমার এই কথাটাই মনে পড়লো। সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন, থানায় সোপর্দ করা, মামলা দায়ের এবং সর্বশেষ জামিন না দিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়ার মধ্যে সুস্পষ্ট একটা বার্তা আছে। এটি কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষোভের বিষয় হলে ব্যাপারটা এতোটা গড়াতে পারতো বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আগে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা দেন-দরবার করেছেন বলে শুনেছি। বেশ কয়েকজন নেতা রাত পর্যন্ত শাহবাগে থানায় উপস্থিত ছিলেন। এদের সবাই বর্তমান সরকারের সমর্থক। ক্ষোভে-বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি যে সাংবাদিকরা সোচ্চার তাদের সিংহভাগই এই সরকারের সমর্থক। রোজিনার স্বামীও সরকার সমর্থক রাজনীতির একজন নেতা। রোজিনা যতো নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বা হবেন- তা এই সরকারের সমর্থক সাংবাদিকদেরই সবচেয়ে বেশি আহত করছে, তাদের অনুভূতি অপমানিত হচ্ছে। নিজের সমর্থকদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে রোজিনাকে নিপীড়নের মাধ্যমে কতিপয় আমলার ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রশমনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্ট এতোক্ষণ চলতে পারার কথা না। কিন্তু রোজিনাকে জেল হাজতে পাঠানোর পর মনে হলো- সরকার এসব আবেগ অনুভূতিকে পাত্তা দিচ্ছে না। আমি মনেপ্রাণে চাইবো আমার এই ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হোক।

এই ঘটনাটি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়েই শেষ হতে পারতো বলে আমি বিশ্বাস করি। হওয়াই উচিত ছিলো। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। সরকারে, আওয়ামী লীগে বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মানুষের একেবারে আকাল পরে গেছে- এই কথা কিভাবে বিশ্বাস করি। তারা এগিয়ে আসতে পারেন। তথ্যমন্ত্রী নিজেও একটা ভূমিকা নিতে পারেন। রোজিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উঠিয়ে নেওয়া, তাকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের যারা তাকে নিপীড়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া-এটি আমার দাবি এবং প্রস্তাব। সরকারের মধ্যে যাদের যুক্তিবোধ, বিবেচনাবোধ আছে- তাদের একটু সক্রিয় হতে বলবো। ‘রোজিনাকে জেলখানায় পাঠিয়ে আপনারা আপনাদের সমর্থক সাংবাদিকদেরই আসলে পীড়ন করছেন’- এই বাস্তবতাটা আপনাদের বোধে কাজ করুক।

[২] হে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। রোজিনা ইসলাম যদি আপনাদের ভাষ্যমতো কোনো গোপনীয় নথি ‘চুরি’ করে থাকে, তাহলেও আপনারা তাকে আটকে রাখতে পারেন না, হেনস্তা করতে পারেন না। সচিবালয়ে পুলিশ আছে, আপনাদের কাজ হলো পুলিশ ডাকা। পুলিশ আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হলে করবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় সচিবালয়ে তাকে আটকে রেখে আপনারা অপরাধ করেছেন। তার গায়ে হাত দিয়ে অপরাধ করেছেন। তাকে শারীরিক, মানসিকভাবে নিগৃহীত করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, অপরাধ করেছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দলবদ্ধভাবে রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের সাথে মাস্তানি করেছেন, নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নয়, একজন নাগরিক রোজিনা ইসলাম সরকারি একটি দপ্তরে গিয়ে সংঘবদ্ধ মাস্তানির শিকার হয়েছেন। এর প্রতিকার হওয়া দরকার। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এই ধরনের একটি মামলা হওয়া দরকার। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন- এমন কোনো আইনজীবীও আদালতে এই মামলাটি করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয়, সম্মানিত কোনো বিচারক যদি নিজে থেকে এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেন। এটি কেবল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয় নয়, কেবল মতপ্রকাশের বিষয় নয়। এটি একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় কোনো দপ্তরে নিজেকে নিরাপদ ভাববার বিষয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সংঘবদ্ধ মাস্তানি বন্ধ করার বিষয়। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত