শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২১, ০৫:০১ বিকাল
আপডেট : ১৭ মে, ২০২১, ০৫:০১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] নারায়ণগঞ্জে বৃদ্ধা হত্যা পরিকল্পনা করে বাসা ভাড়া নিয়ে খুন করা হয়

সুজন কৈরী: [২] সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ঝাউচরে একটি বাড়ির মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর স্ত্রীকে হাত পা বেঁধে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি করে পালিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- সুমন (২৩)ও শিপন মিয়া (২০)।

[৩] এর আগে ওই বৃদ্ধার বাড়ির এক ভাড়াটিয়া দম্পতি হারুন অর রশিদ ও সুলতানা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। তাদের দেওয়া তথ্যে বৃদ্ধা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সুমন ও শিপন মিয়াকে রোববার রাত সোয়া ৩টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের ১টি চেইন, ১টি ঘড়ি, ১টি স্মার্টফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

[৪] সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ) ইমাম হোসেন বলেন, গত ৮ মে রাতে ঝাউচরে বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনকে (৭৫) নেশা জাতীয়য় দ্রব্য খাওয়ানোর পর অজ্ঞান করে এবং তার স্ত্রী হোসনে আরাকে (৬৪) হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনের ছেলে আল আমিন বাদি হয়ে ভাড়াটিয়া দম্পতিসহ অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

[৫] তদন্তকালে সিআইডি জানতে পারে, প্রতারক চক্রের সদস্য সুমন ও শিপন প্রথমে ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে যান। তবে বাড়ির মালিকের স্ত্রী হোসনে আরা তাদের কাছে বাড়ি ভাড়া দেননি। পরে চক্রের অপর দুই সদস্য হারুন অর রশিদ ও তার স্ত্রী সুলতানাকে পাঠানো হয়। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী চার মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন। এই চার মাসে সুলতানা বাড়ির মালিকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ৭ মে রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বৃদ্ধ আজিমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান তারা। তবে তিনি না ঘুমিয়ে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই রাতে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বৃদ্ধ আজিমকে নিতে হয় হাসপাতালে।

[৬] পরদিন আবারও একই কৌশলে বৃদ্ধ আজিম উদ্দিনকে চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে চক্রের মূলহোতা শিপন ও সুমন ওই বাড়িতে যান। তারা ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। তার মুখও গামছা দিয়ে বেধে ফেলেন। এরপরও তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে লাইট বন্ধ করে স্কচটেপ দিয়ে তার মুখোমন্ডল পেঁচিয়ে ফেলে ডাকাতি করে পালিয়ে যান। সেসময় বাইরে হারুনের স্ত্রী পাহারায় ছিলেন। তদন্তে নতুন ভাড়াটিয়া হারুন ও তার স্ত্রীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরে তাদের গাজীপুরের জিরানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি রংপুর মিঠাপুকুরে।

[৭] জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

[৮] ইমাম হোসেন বলেন, মূল পরিকল্পনাকারী শিপন ও সুমন। টোপ হিসেবে হারুন ও তার স্ত্রীকে ব্যবহার করেছেন তারা। গ্রেপ্তার শিপন ও সুমন জানিয়েছেন, হারুনকে ডাকাতির ১১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

[৯] সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইমাম হোসেন বলেন, চক্রের সদস্যরা মনে করেছিল, আজিম উদ্দিনের ১৮/২০টি টিনের ঘর, তাই ডাকাতদের ধারণা ছিল অনেক টাকা পাবে। এ ধারণা থেকেই তারা বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বাড়ির মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। গল্পগুজব ও নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত চা খাওয়াতে ব্যস্ত থাকেন দুজন। বাকি দুজন এ সুযোগে লুট ও খুনে ব্যস্ত ছিলেন। তবে ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে তা বৃদ্ধ আজিমউদ্দিন বলতে পারেননি।

[১০] ইমাম হোসেন বলেন, ঢাকা শহরে এমন ঘটনা প্রচুর আছে। ঢাকায় ১০-১২ লাখ বাড়ির মালিক আছেন। ভাড়াটিয়া আছেন ৩০-৪০ লাখ। ভদ্রবেশী ভাড়াটিয়ারা মূলত পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বাড়ির মালিকদের সাবধান হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়