প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: বিকল্প না দিয়ে কার্জন হলের কংক্রিটের স্লাবটি ভাঙলেন কেনো?

কামরুল হাসান মামুন:  কার্জন হলের গেইট দিয়ে ঢুকে হাতের ডানে গার্ড রুমের পেছনে ফুটপাথে চা স্টলের কাছে একটা কংক্রিটের স্ল্যাব ছিল। ক্লাস নিতে কার্জণ হলের আমার অফিস থেকে মোকাররম ভবনে যাওয়ার সময় দেখতাম ছাত্রছাত্রীরা ওটাতে বসে চা কফি খাচ্ছে আর বসে আড্ডা দিচ্ছে। সেই বসার জায়গাটা নাকি রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা হয়েছিলো। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এটাই ঐতিহ্য। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পেছনের বারান্দায় একটি ছোটরুমে একটা টি ষ্টল ছিল যাকে আমরা মতিনের ক্যান্টিন বলে ডাকতাম। ক্লাসের পরে দুটো ক্লাসের মাঝে দৌড়ে ওখানে যেতাম। ওটা ছিল সিনিয়র জুনিয়রদের একটা মিলনমেলা। আমি বিদেশ থেকে আসার পরে শুনি ওটা মিলনের ক্যান্টিন হয়ে গেছে। এরপর আমাদের সিনিয়র শিক্ষকরা ওটাকে তুলে দেন। ওটা কত বড় একটা খারাপ কাজ হয়েছে তা বলে বোঝানো সম্ভব না। শুধু পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী না, অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীরাও আসতো। ফলে একটা মেলবন্ধন তৈরির সুযোগ ছিল। এখন এক ক্লাসের ছাত্ররা তার দুই ক্লাস সিনিয়র কিংবা দুই জুনিয়রদের চেনেনা বললেই চলে।

শুধুই কি মতিনের ক্যান্টিন বা মিলনের ক্যান্টিন? এইরকম আরো অনেক ক্যান্টিন বা চত্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেমন এপির চিপা। এইগুলো ঘিরেই আমাদের ছাত্রছাত্রীদের আনন্দের তুফান বয়। অথচ কার্জণ হলে থাকার কথা ছিল একটি অত্যাধুনিক ছাত্রশিক্ষকদের জন্য ক্যাফেটরিয়া যেখানে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকরা গল্পগুজব করবে, বন্ডিং তৈরী হবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কখনো এইরকম ক্যাফেটেরিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে দাবি জানায়নি। আমাদের ছাত্ররা কত অল্পতে খুশি হয়। এই সামান্য খুশি ও আনন্দের জায়গাটিও আমাদের কর্তৃপক্ষের সহ্য হয়না। ভেঙেছেন যে তার বিকল্প দিয়েছেন? বিকল্প না দিয়ে ভেঙে ফেললেন কিভাবে?

তবে সুসংবাদ হলো Hasan Mehdi Sifat ও ইকরাম হোসেনসহ আরো কয়েকজন মিলে কংক্রিট স্ল্যাবের জায়গায় কাঠের বেঞ্চ বসিয়েছে। তোমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগকে স্বাগত। Bravo!! আড্ডা গল্প লেখাপড়ারই একটা অংশ। এইটা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা সম্পূর্ণ হয়না। এইজন্যই আমি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক পড়াশুনা বা কোর্স পছন্দ করিনা। অফ লাইন পড়াশুনার কোন বিকল্প নাই। অনলাইন ভিত্তিক পড়াশুনা হবে কোচিং সেন্টারে পড়ার মত। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত মানের ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা করবেন যেগুলো ঘিরেই হবে গল্পের ছলে বইয়ের বাহিরে সামাজিক হওয়ার শিক্ষা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত