প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: কীর্তি ও অগ্রযাত্রার নেতা শেখ হাসিনা

অজয় দাশগুপ্ত: শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না পারলে কী হতো, তা ভাবলেও শিউরে উঠি। তখনকার সময়ে আমরা যুবক হিসেবে রাজপথে থেকেছি। আমাদের অজানা কী হয়েছিল, আর কি হতে পারতো। বাংলাদেশ যে একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাষ্ট্র, সে কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম আমরা। জেনারেল জিয়াউর রহমানের কৌশল ও চাতুরী আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শেষ না হতেই দেশ শাসনে এসেছিলেন সামরিক জেনারেল এরশাদ। প্রয়াত এই জেনারেল ছিলেন ধুরন্ধর। তার আমলের আগেও আওয়ামী লীগ ছিলো বটে, তবে তা খাতা-কলমে। আমি নতমস্তকে স্বীকার করি সেসব নেতাদের অবদানছ যারা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। তারা না থাকলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন কখন কীভাবে হতো বলা মুশকিল। কিন্তু তাদের সাধ্য ছিলো না আওয়ামী লীগের ভাঙন রোধ করেন।  আওয়ামী লীগ বাকশাল মিজানুর রহমান চৌধুরী ও দেওয়ান ফরিদ গাজীর আওয়ামী লীগ মিলে অনেকধারা তখন।

সে ধারাগুলো নদী যেমন সাগরে মেশে তেমনি বিলীন হয়ে গেলো আওয়ামী লীগে। কোন আওয়ামী লীগে? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ যে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ এবং তার কন্যার হাতে নিরাপদ এটা বোঝার পরপরই মানুষ মনপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো সে দলের পেছনে। একদিকে তখন বিএনপি ও তখনকার মুসলিল লীগার আর রাজাকারদের দৌরাত্ম্য। আরেকদিকে এরশাদের কূটকৌশল। সে সময় আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীলদের শোচনীয় বাস্তবতায় ফিরলেন নেত্রী শেখ হাসিনা। কেমন ছিলো সেদিন?

রাজনীতির মতোই প্রকৃতিও সেদিন ছিল ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। ১৯৮১ সালের এই দিনটিও ছিল রবিবার। ছিল কালবৈশাখীর  হাওয়া, বেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি আর দুর্যোগও সেদিন গতিরোধ করতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষের মিছিল। গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়, তাদের একমাত্র আশার প্রদীপ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে। মুষলধারার বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে তারা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলো ‘নেত্রী’ কখন আসবেন এই প্রতীক্ষায়। অবশেষে বিকাল চারটায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর দিয়ে জনসমুদ্রের জোয়ারে এসে পৌঁছান শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সাড়ে  ছয় বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি। তাকে এক নজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে।

পর্যায়ক্রমে দেশ শাসনে আসা আওয়ামী লীগের পেছনে তার অবদান পাহাড়ের মতো অটল। তিনি না ফিরলে এদেশে স্বাধীনতার ঘাতক দালালদের বিচার ও শাস্তি ছিলো দিবাস্বপ্নের মতো। জাহানারা ইমামের গণআদালতের ধারাবাহিকতায় শাহবাগের জন্ম হলেও সে কাজ ছিলো কঠিন। শেখ হাসিনা আমেরিকার জন কেরির ফোন তুচ্ছ করে নানা দেশের নেতাদের অন্যায় অনুরোধ পাত্তা না দিয়ে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ব্যর্থ করে এ দেশ ও ইতিহাসকে কলংকমুক্ত করেছেন। জাতির পিতার হত্যা ও ১৫ আগস্টের বিভীষিকাময় কলঙ্কের বিচার করে মুক্তি দিয়েছেন আমাদের। দেশ ও জাতির বুকের ওপর বসে থাকা সেসব পাথর আর কেউ সরাতে পারতো না।

এখন তাঁর শাসন আমলের চতুর্থবারে তিনি অনেক বেশি পরিণত। তার নেতৃত্বহীন দেশ ও সরকার ভাবাও অসম্ভব। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুফলে আজ উন্নয়নের রথে বাংলাদেশ। এমনকি কঠিন করোনায় ও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এখন তার কাছে প্রত্যাশা আগামী নেতৃত্ব। যা তার প্রত্যাবর্তনের পর পাওয়া আশা ও সম্ভাবনাকে আরও ফলবতী করবে। আমরা তার কাছে এটাই আশা করি। জনগণের প্রত্যাশা গণতন্ত্র ও সামাজিক সাম্য আর অসাম্প্রদায়িকতার এক সুবর্ণ স্বদেশ। লেখক : কলামিস্ট, সিডনি থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত