প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদের পরও চাঙ্গা শেয়ারবাজার

মাসুদ মিয়া: দেশের শেয়ারবাজার ঈদের আগের ধারাবাহিকতায় রোববার ঈদেও ছুটির প্রথম কার্যদিবস সূচকের ব্যাপক উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এই নিয়ে টানা ৭ কার্যদিবস শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত রয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে পাশাপাশি সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে বেশ ভালো গতি দেখা যাচ্ছে। মূল্য সূচক টানা বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেশ বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন ১৪শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে গেছে। এর মাধ্যমে টানা ১০ কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে।

এবিষয়ে নিয়োগকারী এহতেশামুজ্জামান বলেন, রোজার শুরু থেকে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব শুরু হয় তার ধারাবাহিকতায় ঈদের ছুটির প্রথম কার্যদিবস ব্যাপক চাঙ্গা হয়েছে। খাত ভিত্তিতে শেয়ারের দাম বাড়ছে এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক। এখন ব্যাংক বীমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের দর বাড়ছে। এটা বাজারের জন্য ভালো। গত একবছরে আমরা সাধারণ এবং জীবন বীমার অনেকগুলো সার্কুলার দেখেছি যাতে বুঝা যাচ্ছে বীমার আয় অনেক বাড়বে, ইতিমধ্যে ঘোষিত বিভিন্ন বীমা কোম্পানির ইপিএসে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমার শেয়ারের দর বাড়ছে এবং আরো হয়তো বাড়বে। তবে আজ বীমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।

আজ লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় প্রথম মিনিটের লেনদেনেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। এতে দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮১৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছেছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্য সূচকের উত্থানের পাশাপাশি বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনেদেন কমেছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৩ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারের ৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ সামিট পাওয়ার, ন্যাশনাল ফিড, ম্যাকসন স্পিনিং, জিনেক্স ইনফোসিস, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, এসএস স্টিল এবং আইএফআইসি ব্যাংক।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৯০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৮টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত