প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিশুর মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে আগে বাবা-মাকে প্রযুক্তির শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে

শিমুল মাহমুদ: [২] উন্নত প্রযুক্ত নির্ভর খেলনা, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইস শিশুর মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে এবং সেটা অনেক সময় বাবা-মার জ্ঞানের পরিধিকে ছাড়িয়ে যায়। তাই নিজেদের নতুন প্রযুক্তির শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে সন্তানদের সঠিক পথ দেখানো সম্ভব নয় বলে মনে কলেন বিশেষজ্ঞরা।

[৩] অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ এর সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. ইন্দিরা চক্রবর্তী বলেন, দিনদিন প্রযুক্তিগত উতকর্ষের পাশাপাশি বাচ্চাদের আইকিউ লেভেল বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাচ্চারা এখন সমবয়সীদের সাথে না খেলে শুধু খেলনা নিয়েই খেলতে পছন্দ করে, খেলনাই ওদের অগ্রাধিকার। নানা রকম প্রযুক্তিনির্ভর খেলায় তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে বাচ্চাদের মধ্যে পারস্পরিক শেয়ারিং কমে যাচ্ছে। তাদের আইকিউ বাড়ছে, কিন্তু এটাচমেন্ট কমছে, ফিসিক্যাল কন্টাক হচ্ছে না।

[৪] মনোবিজ্ঞানী ডা. তাসদিক হাসান দ্বীপ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বাচ্চাদের চাইলেও এগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যায়না, বরং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। বাচ্চাদের হাতে ডিভাইস থাকলে তারা কোন সাইটে ঢুকছে, কি গেমস খেলছে সেদিকে বাবা-মাকে নজর দিতে হবে। কারণ বাচ্চা কোন সাইটে ঢুকে যে কোন অপরাধে জড়িত হয় তা বুঝা মুশকিল। বাচ্চাদের কোন অভিযোগ বা কোন ধরনের মানসিক অসুস্থতাকেই হেসে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। এমনকি বাবা-মারও মানসিক অসুস্থতা থাকতে পারে যার প্রভাব সন্তানদের উপর পড়তে পারে।

[৫] তিনি বলেন, আজকাল প্রায়ই চোখে পড়ে বাচ্চারা যথাসময়ে কথা বলতে বা সঠিকভাবে কথা বলতে পারছে না অথবা অন্য কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এসবের পেছনে অন্যতম কারণ ‘স্ক্রিন এডিকশান’। কারণ বাচ্চাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ন থাকছে মোবাইল বা ট্যাব। ট্যাবে তারা হয়তো ইংরেজী কিছু দেখছে কিন্তু বাসার লোকজন বাংলায় কথা বলছে, আবার দেশের বাইরে থাকা লোকজন অন্যভাবে কথা বলছে। সবমিলিয়ে বাচ্চারা মানিয়ে নিতে পারছে না। বাবা কিংবা মা অথবা উভয়ের যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তার প্রভাব সরাসরি সন্তানের উপর পড়ে। সন্তান সুইসাইড করা, মাদকাসক্ত হওয়া ইত্যাদির পেছনে প্যারেন্টিং এর প্রভাব খুব বেশি। বাচ্চাদের বেশি সময় দেয়ার চেয়ে ‘কোয়ালিটি’ সময় দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

[৬] বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অনেক কর্মজীবী নারী-ই সন্তান জন্মের পর তার দেখভালের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। কারণ মেয়েদের মাথায় কাজ করে এ দায়িত্ব শুধুই মায়েদের, বাবাদের নয়। মেয়েরা এখন সর্বস্তরের কর্মক্ষেত্রে আসছে এটা যেমন সত্য, তেমনি তারা সন্তানদের সময় না দিতে পারা নিয়ে এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগেন।

[৭] তিনি বলেন, খুব ছোটবেলায় বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক থেকেই বাচ্চারা শিখে যে সন্তান লালনপালন করা মায়েদের কাজ আর অর্থ উপার্জন করা বাবাদের কাজ। কর্মজীবী বাবা-মার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা উচিত। প্যারেন্টিং একটা টিম ওয়ার্ক হলেও কেউ যেন মনে না করেন এই টিমে সন্তান লালনপালন করা মায়েদের কাজ আর অর্থ উপার্জন করা বাবাদের কাজ। দুজনকেই উভয় দায়িত্ব পালন করতে হবে।

[৮] ‘আরবান প্ল্যানিং’ এ আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোর বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া খেলার মাঠ, উদ্যান ইত্যাদিতে নিরাপত্তা বিধানের উপরও তিনি জোর দেন। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন না এনে শুধু নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে কোন লাভ হবে না বলে তার মত।

[৯] রোববার রাতে “স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম” এর উদ্যোগে ‘প্যারেন্টিং: অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে আলোচকরা এসব মতামত ব্যক্ত করেন। সঞ্চালনা করেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত