প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: হার না মানা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী: বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভাগ্যোন্নেয়নের ইতিহাস বিনির্মাণে দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন ১৭ মে। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম ও জীবনঝুঁকির মধ্যেও দলকে সুসংগঠিত করেছেন তিনি। বাংলাদেশ এক হার না মানা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনাকে পেয়েছে । তার পিতা বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদপিণ্ডে আছেন। তিনি সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য। বাংলার মানুষের ধমনিতে রয়েছে তাঁর অস্তিত্ব। আমরা সবাই জানি, তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে একে একে এদেশের ইতিহাসে নতুন গতি এনেছেন।

একটু পেছনে ফিরে যদি তাকাই, তাহলে দেখি যে, সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা কী রকম ভয়ংকর ঝুঁকিতে পড়েছিলেন দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি সেদিন। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলামÑপিতৃ হত্যার বদলা নেব’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধুহত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

সেই ‘কালো রাত’ আমরা কখনো ভুলতে পারবো না। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শিকার হন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের। রাতের শেষপ্রহরে সংঘটিত হয় মহাদুর্যোগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা তখন বিদেশে ছিলেন বলেই প্রাণে রক্ষা পান। গণতন্ত্রের আজীবন সাধক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে এগিয়ে চলেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও কঠিন বাস্তবতার পর এটা প্রমাণিত যে, দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে তাঁর ওপর।

সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কঠিনপথে নানা বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। গুজব ছড়িয়ে, মিথ্যা তথ্য ও ধর্মের দোহাই দিয়ে চলছে নানা চক্রান্ত। যিনি দেশের জাতির পিতা তাঁর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা ও ভেঙ্গে ফেলার হুমকিদাতারাও এদেশেই থাকে। আফসোস্ যে, ২০১৩-এর মে মাসের পাঁচ তারিখ কফিনের কাপড় উঁচিয়ে ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পতনের ডাক দিয়ে যারা টিভির সম্মুখে বলেছিলেন, লাশ পড়ে থাকবে তবু যাবো না, তাঁরা কিন্তু পরদিন ঠিকই মতিঝিল-দিলকুশা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। আর আমরা এটাও ভুলে যাইনি যে, বিএনপি নামের দলটি সরকার পতনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। ধর্ম আর গণতন্ত্র এক বিষয় নয়। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। তাই বলি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল এখনো আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেও চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ছিলো।

পঞ্চাশ বছর ছুঁই ছুইঁ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদও শুনেছিলাম। পাকিস্তানি হানাদারদের পরাজিত করে আমরা জয় ছিনিয়ে এনেছি । কতো অসহায় ছিলাম আমরা। এখন আমরা খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা অর্থাৎ সবদিক দিয়েই সামনের কাতারে এগিয়ে চলেছি। আমাদের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতেন কেবল জাতির পিতা। এই বাংলাদেশকে তাঁর মতো কেউ কখনো ভালবাসেনি। তাঁর কথাই জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ। দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর।

.. বঙ্গবন্ধু আরো বলেছিলেন, ‘‘জীবনভর আমি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। যার মনের মধ্যে আছে সাম্প্রদায়িকতা সে হলো বন্যজীবের সমতুল্য। .. ..আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা। বাংলার কৃষ্টি, বাংলার সভ্যতা, বাংলার ইতিহাস, বাংলার মাটি, বাংলার আকাশ, বাংলার আবহাওয়া তাই নিয়ে বাংলার জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ যা তোমরা বিশ^াস করো।’’ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ছেলেদের বঙ্গবন্ধু বলতেন, “সারাদিন কী কাজ করলে তা রাতে শোবার আগে একবার হিসাব-নিকাশ করো।”

এটা তো চোখের সামনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কারণে দুর্নীবাজদের এখন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, জেল খাটছে, বিচার চলছে। এই রীতি-পদ্ধতি দীর্ঘদিন এদেশে ছিল না। এখন অন্যায়কারী ধরা পড়লে তিনি যতো উচ্চতম ব্যক্তি বা সমাজের যেকোনো স্ট্যাটাসেরই হোন না কেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। শেখ হাসিনা সরকার আমলে নিজ দলের (সাবেক) মন্ত্রী, এমপি, নেতা, জনপ্রতিনিধি, নামিদামি ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী কারাকর্মকর্তাও জেলে গেছেন। করোনা সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বিশ^খ্যাত পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সমগ্র বিশে^র জন্য গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে করোনা সংকট জয় করে বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

আমরা জানি, রাজনীতির কঠিন ময়দানে জাতির জনকের এই কন্যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কারণেই আজ টেকসই উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ। মোট চারবারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বারো বছর ধরে দুঃসাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দেশের জনগণকে যেমন আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন ঠিক তেমনি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এক বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত