প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জকিগঞ্জের রেদোয়ান খুনের ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় মামলা

রহমত আলী হেলালী: সিলেটে রাইড শেয়ারিং কর্মী জকিগঞ্জের রেদোয়ান রশীদ চৌধুরী সৌরভ (২৮) খুনের ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্তর্গত মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা লোকদের আসামী করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রেদোয়ানের দুলাভাই কাজী আব্দুর রহমান।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার শ্যালক রেদোয়ান রশীদ চৌধুরী সৌরভ জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কামালপুর গ্রামের মৃত নোমান রশীদ চৌধুরীর ছেলে। সে বিগত ১ বছর থেকে সিলেট নগরীর কোতয়ালী থানার অন্তর্গত চালিবন্দর এলাকায় অবস্থিত তার বাসায় থেকে মোটর সাইকেল দিয়ে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১১ মে সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটের দিকে রেদোয়ান রশীদ চৌধুরী সৌরভ তার চালিত মোটর সাইকেল (রেজি নং-সিলেট হ-১২-২৭০২) নিয়ে বাসা থেকে বের হন।

এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে গত ১২ মে সিলেট কোতয়ালী থানায় নিখোঁজ সংক্রান্তে তিনি একটি সাধারণ ডায়রী করেন। জিডি নং ৮৭০। এই জিডি’র সূত্রধরে গত বৃহস্পতিবার (১৩ মে) রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতয়ালী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মোগলাবাজার থানার অন্তর্গত মুহাম্মদপুর (গফুরেরবান্দ) যাত্রী ছাউনীর পিছনের ডোবায় রেদোয়ানের মতো একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে রেদোয়ানের পরিবারকে বিষয়টি অবগত করলে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রেদোয়ান রশীদ চৌধুরীর লাশ হিসাবে শনাক্ত করেন এবং স্থানীয় মোগলাবাজার থানা পুলিশকে অবগত করেন।

খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল মুহাম্মদপুর (গফুরের বান্দ) এলাকায় এসে স্থানীয় যাত্রী ছাউনীর পেছনের ডোবায় কচুরিপানাযুক্ত কাদামাটি মাখা রেদোয়ানের লাশ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় যাত্রী ছাউনীতে এনে পুলিশ পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। সুরতহাল রিপোর্টে দেখা যায় রেদোয়ানের কপালে, মাথার পেছনে ও গলার পেছনে জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং জিহ্বা মুখ থেকে অর্ধে বের করা ও দাঁত দিয়ে কামড় দেয়া। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য সিলেট এম.এ.জি.ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে ইসালামী শরীয়া মোতাবেক শুক্রবার বিকালে রেদোয়ান রশীদ চৌধুরীর লাশ দাফন করা হয়।

অভিযোগে তিনি দাবী করেন, তার শ্যালক রেদোয়ান রশীদ চৌধুরীকে গত ১১ মে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের পর থেকে ১৩ মে রাত ১১ টা ৩০ মিনিটের মধ্যবর্তী কোন এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে ও গলার পেছনে আঘাত করে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাস রোধ করে লাশ গুম করতে ডোবার কচুরিপানার ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে। এসময় আসামীরা তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনায় পুলিশের নিকট আইনানুগ সহযোগিতা চান।

মামলার সত্যতা স্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, পুলিশ আসামীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত