প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পঞ্চম দফায় ২৩ মে পর্যন্ত বাড়ছে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ, প্রজ্ঞাপন রোববার

আনিস তপন : [৩] শনিবার দুপুরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে রোববার সকালে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেবেন।

[৪] প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গ্রামে গিয়েছেন। তারা আবার কর্মস্থলে ফিরবেন। যদিও এর মধ্যে অনেকেই করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্রামে গিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

[৫] তাছাড়া অনেকে মার্কেটে গিয়েছেন। কেনা-কাটা করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বেশিলভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেননি। এসব কিছু বিবেচনা করেই সম্ভবত সরকার আরো সাত দিনের জন্য চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াচ্ছে।

[৬] তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যারা গ্রামে গিয়েছেন এবং মার্কেটে কেনা-কাটা করেছেন। তাদেও অনেকের সংক্রমিত হওয়ার আমঙ্কা রয়েছে। ফলে আক্রান্ত এসব রোগীর লক্ষণগুলো প্রকাশ পাবে ২২ মে থেকে কয়েক দিনের মধ্যে।

[৭] এক প্রশ্নের জাবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা গ্রামে গিয়েছেন তাদের ফেরার সময় পরিস্থিতি কেমন হবে। কিভাবে ফিরবেন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে যেভাবে তারা গিয়েছেন ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কিনা এ বিষয়গুলো সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এর সম্ভাব্য নিরাপদ উপায় বের করার চেষ্টা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি কেমন হবে সেটাও আলোচনায় থাকবে।

[৮] ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনা সংক্রান্ত যত ফাইণ্ডিংস ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ সরকারের কাছে এসেছে সেসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

[৯] এরইমধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত ফেরত এমন করোনা আক্রান্ত কয়েকজন রোগী হামপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের ফেরত আনা হয়েছে। এসময় তাদের সংস্পর্ষে যারা এসেছেন তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কাউকে সংক্রমিত পাওয়া যায়নি।

[১০] ভারত থেকে সীমান্তের অনেকগুলো পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। এসব সীমান্ত পথে যারাই দেশে প্রবেশ করেছেন তাদের প্রত্যেককে আইসেলেশনে রাখা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কেউ কোনোক্রমে ফাঁকি দিয়ে বা পরীক্ষা ছাড়াই দেশের অভ্যন্তওে প্রবেশ করেছে কিনা? সেটা এই মূহুর্তে বলা কঠিন।

[১১] এ বিষয়ে সরকার খুবই সতর্ক রয়েছে। তাই যখনই কারো পরীক্ষা করা হচ্ছে তখনই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে, এটা এসেছে কিনা বা এই ভ্যারিয়েন্ট ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা তৈরী করবে কিনা? সেটা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

[১২] বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু মোটামুটি এখানে একটা হার্ডইমিউনিটির বিষয় আছে বা আগে ইউকে (যুক্তরাজ্য) ভ্যরিয়েন্ট আগে থেকেই ছিল। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট থাকলে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুব একটা ডমিনেট করতে পারে না। তারপরও সরকার এই বিষয়ে অত্যস্ত সতর্ক রয়েছে যাতে কোনোভাবেই করোনা সংক্রমণ আর বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

[১৩] এছাড়া যারা স্বাস্থবিধি না মেনে মার্কেটে এবং গ্রামে গিয়েছেন। তাদের মধ্যে যদি কেই সংক্রমিত হয়ে থাকেন তাদের লক্ষণগুলো দেখা যাবে ২২ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে। তাই এই সময়টা সরকারের পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। কোনো ব্যতিক্রম দেখা গেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[১৪] সবকিছু ভাল থাকলে সরকারি-বেসরকারি অফিস, কারখানাসহ সব খুলে দিতে হবে। এরপরও অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধির মধ্যেই চলতে হবে। এই সময়ে (২০-৩০ মে) কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা দেখে পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত