প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের একক আধিপত্যের যুগ শেষ : হামাস (ভিডিও)

রাশিদুল ইসলাম : [২] কিছুদিন আগ পর্যন্তও ইসরায়েলি গোলার জবাবে গুলতি ছিল ফিলিস্তিনিদের একমাত্র অবলম্বন। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, জর্দান নদীর পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকা বা ফিলিস্তিনের অন্য যেকোনো স্থানে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিরাও এখন তেল আবিবকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐক্য প্রকাশ করে সিরিয়া ও লেবানন থেকেও ইসরায়েলে রকেট ছোড়া হয়েছে। পারসটুডে

[৩] হামাসের মুখপাত্র ফৌজি বারহুম শুক্রবার বিকেলে এক বিবৃতিতে গাজা ও পশ্চিমতীরের জনগণের ইসরায়েল বিরোধী সাহসী প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে যে ঐক্য ও সংহতির বন্ধন গড়ে উঠেছে এ ঘটনায় তা প্রমাণিত হয়েছে। এবারের সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিম তীরের বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসী ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গাজা থেকে ইসরায়েল-বিরোধী হামলার মাধ্যমে। কাজেই ইসরায়েলকে মোকাবেলায় ফিলিস্তিনবাসীর একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত।

[৪] ফিলিস্তিনিদের রকেট হামলায় ইসরায়েল জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এপর্যন্ত ৯ জন ইসরায়েল নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জন। ইসরায়েলের মধ্যে হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলার সময় সাইরেনের বিকট শব্দে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রাণ বাঁচাতে ইসরায়েলিরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সময় কাটাচ্ছে। এক সময় ইসরায়েলি ট্যাংকের সামনে যে ফিলিস্তিনিরা শুধু পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানাত আজ তাদের এই সামরিক সক্ষমতাকে দু’পক্ষের শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।

[৫] ইরাকে ইসরায়েল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন নেতা হাদি আল-আমেরি বলেছেন ইসরায়েল অপরাজেয় এ ধারণা হামাসের রকেট হামলার মধ্যে দিয়ে মিশে গেছে এবং মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এ প্রতিরোধ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধ নতুন হিসেব নিকেষ সামনে এনেছে। শুধু গাজা নয় খুব শীঘ্রই পুরো ফিলিস্তিন থেকে ইসরায়েলে আরো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে। তারা ড্রোনের হামলাও দেখতে পাবে। আমরা ইরাকিরা ফিলিস্তিনিদের পাশে এই পবিত্র যুদ্ধে পাশে দাঁড়াবো।

[৬] ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইরাকের হারকাত আল-নুজাবা প্রতিরোধ গ্রুপের হাশেম আল-মুসাভি বলেন ইরাকিরা ফিলিস্তিনিদের পাশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়বে কারণ ফিলিস্তিন মুসলিম বিশে^র মর্যাদা ও পরিচয়ের প্রতীক। যুদ্ধ শুরু ও শেষ করা এখন আর ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করবে না। মুসাভি এও বলেন ইরান আঞ্চলিক প্রতিরোধ বলয়ে অবস্থানের পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের পরিস্কার ধারণা দিয়েছে। ফিলিস্তিনকে এখন আঘাত মানে ইসরায়েলকে পুরো ইসলামি প্রতিরোধ শক্তির সঙ্গে লড়তে হবে।

[৭] হামাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খালেদ মিশাল আরটি আরবি শাখাকে বলেন ইসরায়েল এবার আগ্রাসন শুরুর পর টের পেয়েছে গাজায় তাদের হামলা কিভাবে ব্যুমেরাং হচ্ছে এবং তা ফিলিস্তিনি ছাড়াও বিশাল এক প্রতিরোধ যুদ্ধের ফাঁদে আটকা পড়তে যাচ্ছে। ইসরায়েলে যেসব রকেট ও মিসাইল দিয়ে তা হামলা করা হয়েছে তা গাজায় তৈরি হয়েছে।

[৮] খালেদ মিশাল বলেন আল-আকসা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সরে যেতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তাদের গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের কথা ভুলে যেতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত