প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বাঁচতে হবে, এই জেদে বাড়িতে এনে নিজেই অক্সিজেন দেওয়া শুরু করি’

ডেস্ক নিউজ: ‘মনে হচ্ছিল গলার কাছে কিছু একটা চেপে বসছে। দম আটকে এখনই সব শেষ হয়ে যাবে। সেই অবস্থাতেই কোথাও শয্যা না পেয়ে শ্যামবাজারের একটা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। দু’দিন ধরে সেখানে যা হলো, তাতে মনে হয়েছিল এখানে থাকলে আর বাঁচব না। ঠিক করেছিলাম, বাঁচতে আমাকে হবেই। জোর করেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসি। সিলিন্ডার আনিয়ে নিজেই অক্সিজেন চালিয়ে লড়ে গিয়েছি। শেষে করোনাকে হারিয়েই ছেড়েছি।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ভারতের ব্যান্ডেলের বাসিন্দা বিশ্বনাথ। তিনি বলেন, গত ১০ এপ্রিল আমি আর আমার স্বামী ব্যান্ডেলে গিয়েছিলাম ভোট দিতে। ১১ তারিখ সেখান থেকে ফিরেই জ্বর আসে আমার। করোনা পরীক্ষা করাতেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ছেলে তখন প্যারিস থেকে টিকিট কেটে চলে আসার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক জন বন্ধুর কাছে ছেলে সাহায্য চাইল। ১৮ এপ্রিল শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৮০ তে নেমে যেতে শুরু করল। এরমধ্যে স্বাস্থ্য ভবনের নম্বরে ফোন করাতে তারাও কোনো শয্যার কথা বলতে পারল না। ছেলের এক বন্ধু যে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলিয়েছিল, তিনিই শ্যামবাজারের ওই হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা আছে জানিয়ে চলে আসতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, এরপর ১৯ তারিখ দুপুরে সেখানে ভর্তির পর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনও খাবার দেওয়া হলো না। সেই সঙ্গে ছিল কর্মীদের দুর্ব্যবহার। পরদিনও সকাল থেকে কোনও খাবার দেওয়ার হয়নি। মনে হচ্ছিল, করোনা তো পরে, না খেতে পেরেই মারা যাব! যে চিকিৎসক আমাকে ভর্তি করিয়েছিলেন তিনি দেখতে আসতেই বাড়ি যেতে চাই জানালাম। তিনি মুখের উপরে প্রেসক্রিপশন ছুড়ে দিলেন। আমার অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে দিয়ে তখনই বের করে দিতে বললেন নার্সদের।

ছেলে তখন প্যারিস থেকে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। খালি বলছে, একটু সহ্য করে নিতে। ছেলেকে বোঝালাম, এখানে থাকলে আমার চিকিৎসা হবে না। ছেলে শেষে রাজি হলো। দেড় বেলার জন্য বিল হলো ৩৩ হাজার টাকা!

হাসপাতাল থেকে ফেরার পরদিন সকালেই দেখছি, একেবারে শ্বাস নিতে পারছি না। এ কদিন আমার যে দাদা খুব সাহায্য করেছিলেন, ওকে জানালাম, সুলেখা মোড়ের কাছে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দোকানের কথা। সেখানে দ্রুত গিয়ে অক্সিজেনের খোঁজ করতে বললাম। তত দিনে অক্সিজেন নিয়ে এক রকম হাহাকার শুরু হয়ে যায়।

ওই দাদা জানালেন, দুই হাজার টাকা জমা রাখলে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। প্রতিদিনের ভাড়া এক হাজার টাকা। তাই নিয়েই বাড়িতে দিতে বললাম। শ্যামবাজারের হাসপাতালে থাকাকালীন কোন পরিস্থিতিতে কতটা অক্সিজেন দিচ্ছে, দেখে নিয়েছিলাম। সেইটা মনে করে নিজের মতো করে অক্সিজেন চালানো শুরু করলাম। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। ১৭ দিনের মাথায় আমার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। স্বামী আর দাদারও রিপোর্ট নেগেটিভ।

তাই, সবাইকে বলতে চাই, কোনো পরিস্থিতিতেই ভয় পাওয়া চলবে না। মনের জোর থাকতে হবে। আমি যদি পারি, সবাই পারবেন। সূত্র: আনন্দবাজার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত