প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকের ভূমিকা

মো: মোজাহিদুর রহমান: কথায় আছে “শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড” শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি তার উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনা। তাইতো শিক্ষা জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। আর এই শিক্ষা শিক্ষার্থীর কাছে অর্থবহ এবং প্রানবন্ত করে তোলে শিক্ষসমাজ। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকরা জাতি গঠনে নিরবেই ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই সংকটকালীন সময়ে শিক্ষকরা অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের

স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত সম্যক জ্ঞান প্রদান করা,মানসিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কে উৎফুল্ল রাখা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ না হয় সেদিকে গভীরভাবে শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বারং বার সন্মানিত অভিভাবকদের সাথে ভার্চুয়াল মিটিং করা, করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধির নিয়মাবলী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কিভাবে বাসায় মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখা যায় সেই পরামর্শ বা তথ্য তাদের কাছে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে এবং সন্মানিত অভিভাবকদের কে সচেতন করার চেষ্টা করে থাকে একজন শিক্ষক।

এই কোভিড-১৯ এর থাবায় যাতে একটি জাতি মেধাশূন্য না হয়ে যায়-একজন শিক্ষক হিসেবে সেই বিষয়টি খুবই আন্তরিকতার সাথে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক তার বাসায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলে ও এমন কি শিক্ষক নিজে বা শিক্ষকের পরিবারের কোন সদস্য করোনা পজেটিভ হওয়া সত্তে¡ও সেই শিক্ষককে কোয়ারেন্টাইনে থেকেও শিক্ষাকার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন।

প্রতিদিন একজন শিক্ষককে অনলাইনে একাধিক ক্লাস নিতে হয়েছে।রাত জেগে আগামী ক্লাসের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি , স্বাস্থ্যবিধি প্রতিনিয়ত আপডেটেড তথ্য এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে শারিরীক ও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকে সেই বিষয়টি একজন শিক্ষকের পাঠদানে গুরুত্ব পেয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশ কিন্তু তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অপরপক্ষে, বাংলাদেশের শিক্ষকরা তাদের একাগ্রতা, মেধা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখতে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। কোন শিক্ষার্থী যদি অনলাইনে সময়মত ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারলেও শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসটি বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইটে অথবা বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে সার্বক্ষনিক শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত রেখেছেন যাতে কোন শিক্ষার্থী এই সংকটকালীন সময়ে পড়াশুনায় পিছিয়ে না পড়ে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক এই মহামারীর সময়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন উদ্যেগ গ্রহণ করেছে। যেমন- নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন স্কুল এবং সংসদ টেলিভিশনে দেশসেরা শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার সুব্যাবস্থা করা, এতে করে রিমোট এরিয়ার শিক্ষার্থীরা ও তাদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যহত রাখতে পারছে খুব সুন্দরভাবে। এই সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পাদন হয় তার দেখভাল করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে তাঁকে সাধুবাদ জানাই।

পরিশেষে, একজন শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ যাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে সেই সব প্রান চঞ্চল শিক্ষার্থীরা সংকটকালীন পরিস্থিতিকে জয় করে ফিরে আসুক তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ আমার প্রার্থনা ও প্রত্যাশা।

প্রভাষক (জীব বিজ্ঞান)
মর্নিং গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সাভার সেনানিবাস, ঢাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত